নিজস্ব প্রতিনিধি, মহেশতলা: মহেশতলা কাণ্ডে উত্তপ্ত বাংলা। তারপর থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে বিজেপি। এবার মহেশতলায় চলা অশান্তির ঘটনায় বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশের দশটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দুর দাবি মহেশতলার বর্তমান যা অবস্থা তাতে একমাত্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাই হাইকোর্টের কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে NIA-কে মামলা হস্তান্তরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই মামলা দায়েদের অনুমতি দিয়েছে।
বুধবার সকালে আগ্রা সন্তোষপুর এলাকায় ফলের দোকান বসানো নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়। বিবাদ ক্রমেই পরিণত হয় হাতাহাতিতে। তারপর শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। অবস্থা সামাল দিতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়, নামানো হয় র্যাফ। একজন মহিলা পুলিশকর্মী বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে আহত হন। তাঁকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে আহত হয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পোর্ট হরিশ্চান পাই। তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। রক্তাক্ত হয়েছেন লালবাজারের একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট।
মহেশতলার ঘটনায় আগেই সুর চড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনার দিনই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভবানীভবনে গিয়ে পুলিশি ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দুর অভিযোগে পাল্টা সরব হয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বাংলাকে তুলনা করেছেন গুজরাতের সঙ্গে। এদিন তিনি বলেন, ‘বাংলা কোনওদিন গুজরাত হবে না। এখানে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে এসেছি, করছি, করব। পুলিশ তার মতো করে কাজ করবে। বাংলাতে হিংসার স্থান নেই। কেউ বাংলার শান্তি ভাঙার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রবীন্দ্রনগরের একাধিক জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। বৃহস্পতিবার সকালেও থমথমে পরিবেশ মহেশতলার। অলিতে গলিতে কড়া নজর রাখছে মোতায়েন হওয়া পুলিশ টিম।