নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- অবশেষে মিলল পরিচয়। মালদহের চাঁচলের আমবাগানে পুড়িয়ে দেওয়া মহিলার দেহ শনাক্ত করল পরিবার। শুক্রবার সকালে আমবাগানে অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছিল রক্তমাখা ছুরি, নাকছাবি, হার ইত্যাদি। এ বার ঘটনাস্থলের অদূরে জলাশয় থেকে একটি ব্যাগ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তার ভিতরে আধার এবং ভোটার কার্ড ছিল। সেখান থেকে মৃতার পরিচয় জানার পর তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যেরা চাঁচল থানায় যোগাযোগ করেন। এক প্রৌঢ় জানিয়েছেন, মৃত মহিলা তারই মেয়ে।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃতার বাপের বাড়ি চাঁচল থানারই দক্ষিণ শহর এলাকায়। বছর দশেক আগে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকায় তার বিয়ে হয়েছিল। মহিলার দুই সন্তানও রয়েছে। তবে বেশ কয়েক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, তারা প্রাক্তন জামাইয়ের খোঁজখবর রাখেন না।
অন্যদিকে এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশন থেকে আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের অনুমান , অভিযুক্ত আবু তাহেরের সঙ্গে ওই মহিলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কোনও গন্ডগোল থেকে কি এই খুনের ঘটনা ঘটেছে? এই বিষয়ে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
মালদহের জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সামসি স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে ধৃত যুবকের সঙ্গে এক জন মহিলাকে দেখা গিয়েছিল। পরে স্টেশন থেকে ওই যুবক যখন বেরিয়ে যান, তখন আর মহিলাকে দেখা যায়নি। বাকিটা তদন্তসাপেক্ষ। তবে পুলিশ মনে করছে, বৃহস্পতিবার রাতেই খুন করা হয়েছিল চাঁচলের বাসিন্দা ওই মহিলাকে। প্রমাণ লোপাটের জন্য তার দেহ পুড়িয়ে দেন খুনি। যে জায়গা থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি মালতীপুরে চাঁচল-২ ব্লক অফিসের কাছে। সেখানে খড়ের গাদার ভিতরে ছিল মহিলার অগ্নিদগ্ধ দেহটি।