নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হওয়ার সুবাদে কেউ কী কাউকে ধরে পেটাতে পারে? গায়ে হাত তুলতে পারে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের ওপর? এই দুই প্রশ্ন ঘিরে এখন উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ জেলার(Murshidabad District) কান্দী মহকুমার(Kandi Subdivision) সালার গ্রামীণ হাসপাতাল(Salar Rural Hospital) চত্বর। কেননা সেখানে হাসপাতালের নার্সরা কর্মবিরতি(Nurses Strike) শুরু করেছেন, স্থানীয় এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের মারে তাঁদেরই এক সহকর্মীর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায়। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান এখনও গ্রেফতার না হওয়ায়া ক্ষোভ ছড়িয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগো ও তাঁদের পরিজনদের। তাঁরা এই অবস্থার অবসানের জন্য দ্রুত উচ্চ প্রশাসনিক স্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ঠিক কী হয়েছে? জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দী মহকুমার ভরতপুর-২ ব্লকের সালার গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান(TMC Panchayat Pradhan) রেজি বিবি ভোর রাতে তাঁর অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। তখনই কর্তব্যরত একজন নার্সকে চড় মারেন তিনি। স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ। একজন জনপ্রতিনিধির এই আচরণে রবিবার সকাল থেকে একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন হাসপাতালের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালে গেটের সামনে ধরনায় বসেছেন কর্তব্যরত নার্সরা। তাদের দাবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত প্রধানের সঠিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হাসপাতালের গেটের সামনে ধর্নায় বসে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন হাসপাতালের নার্সরা।
আক্রান্ত নার্স জানিয়েছেন, ‘শনিবার রাতে আমি তখন ডিউটিতে ছিলাম। একটি মেয়েকে নিয়ে এক মহিলা হাসপাতালে আসেন। মেয়েটিকে ইনজেকশন দিতে আমি পাশের ঘরে ডাকি। কারণ যে ঘরে মেয়েটি ছিল সেখানকার আলোটি মাঝে মাঝে নিভে যায়। মেয়েকটিকে নিয়ে আসেন একজন মহিলা। পরে তিনি নিজেকে সালারের প্রধান বলে দাবি করে বলেন, কেন মেয়েকে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য অন্য ঘরে নিয়ে যেতে হবে? এর পর আমাদের চাকরি খেয়ে নেবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। এরই মধ্যে একজন পুরুষ এসে অভিযোগ করতে থাকেন আমরা রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি। তিনি মারমুখি হয়ে ওঠেন। তখন হাসপাতালের গ্রুপ ডি কর্মী তাঁকে রোখার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে মহিলা এসে আমার গালে কষিয়ে চড় মারেন। যার জেরে আমি মাটিতে পড়ে যাই। চড়ের আঘাতে আমার নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে।’