নিজস্ব প্রতিনিধি: একসময়কার বাম কর্মী। পরে হয়েছিলেন এলাকার সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর খাস লোক। বিগত কয়েক বছরে লোকে তাঁকে চিনেছিল তৃণমূল(TMC) ঘণিষ্ঠ প্রমোটার(Promoter) হিসাবেই। সেই বছর ৫০’র প্রদীপ দত্ত লক্ষ্মী পুজোর দিন সাত সকালে মর্নিং ওয়াকে বেড়িয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে(Shootout) ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন। বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলার(Murshidabad District) সদর শহর বহরমপুরের(Baharampur) অদূরেই রাধারঘাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাথপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মোটরবাইকে করে এসে গুলি করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও গুরুতর আহত অবস্থায় তড়িঘড়ি প্রদীপবাবুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন, বিশ্বব্যাঙ্কের টাকায় Logistics Master Plan বানাচ্ছে রাজ্য সরকার
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিনই প্রদীপবাবু ওই এলাকায় মর্নিংওয়াকে বেরোতেন। এদিন গুলির শব্দে এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে এসে দেখেন রাস্তার ধারে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন প্রদীপবাবু। ৩ যুবককে তাঁরা সেই সময় বাইকে করে চলে যেতেও দেখেন। মনে করা হচ্ছে ওই ৩ যুবকই গুলি চালিয়েছে। গোটা ৫ গুলি প্রদীপবাবুকে লক্ষ্য করে করা হয়। তার মধ্যে ৩টি তাঁর শরীরে লাগে। তা দেখেই অনুমান করা হচ্ছে, প্রদীপবাবুর মৃত্যু নিশ্চিত করতেই ৫টি গুলি খরচ করা হয়েছে। যদিও কারও কারও দাবি ৭টির মতো গুলি চলেছে। বহরমপুরের নাথপাড়া বাজারে প্রদীপবাবুর একটি প্লাইউড ও কাঁচের দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন মর্নিং ওয়াক সেরে বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই তাঁর পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়।
আরও পড়ুন, পুজো শেষ, ঠিক ৫ দিন বাদে শুরু হবে আবাসের সমীক্ষা, গুরুত্ব ১০ দফা শর্তে
শরীরে গুলি লাগার পর পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পারেননি। দুষ্কৃতীরা আবার গুলি চালায়। পর পর সাতটি গুলি চালিয়ে এলাকা ছাড়ে তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বহরমপুর থানার পুলিশ। এই হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা রয়েছে নাকি রাজনৈতিক কারণ, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল জানান, এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে খুনের সময়কার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে। কী কারণে খুন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।