নিজস্ব প্রতিনিধি: কৃষ্ণনগরে তরুণী মৃত্যুর রহস্য(Krishnanagar Death Incident) উন্মোচনে তদন্ত চলছে জোরকদমে। ইতিমধ্যেই তরুণীর প্রেমিক রাহুল বসুকে ফের পাঁচ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে(Krishnanagar Police) নেওয়া হয়েছে। লাগাতার তদন্ত(Investigation) চালিয়ে জানতে পারা গিয়েছে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের পূর্বেও একাধিক সম্পর্কে(Relationship) জড়িয়েছেন রাহুল। এমনকি তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন আরও দুই জনের সঙ্গে রাহুলের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে এই মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তরুণীর বাবা-মায়ের দাবি, এটি পরিকল্পিত খুন। রাহুলের সব কুকীর্তি জেনে ফেলার কারণেই নাকি তাঁদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে ওই যুবক। এছাড়াও অভিযুক্তের পাশাপাশি আরও প্রভাবশালী কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে দাবি মৃতার বাবা-মায়ের।
আরও পড়ুনঃ আরজি কর দুর্নীতির মামলায় বিভাগীয় তদন্তের প্রস্তুতি দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
তরুণী যে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করছেন সেই খবর অনেক আগেই পেয়েছিল রাহুল। ঘটনার দিন রাত দশটার সময় তাঁদের মধ্যে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। এর পরদিন ভোরেই উদ্ধার হয় তরুণীর দগ্ধ মৃতদেহ। ফলে এই ঘটনা সত্যিই আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন! সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এই আবহে ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে এক অডিও ক্লিপ। যেখানে এক যুবক ও এক তরুণী ওই মৃতার আত্মহত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।
আরও পড়ুনঃ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক সোহম
অডিও ক্লিপের পুরুষ কন্ঠটি রাহুলের বলেই প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছে। সে বলছে, ‘কেরোসিন তেল নাকি কিনেছে, দেশলাইও..।’ জবাবে মহিলা কণ্ঠে শোনা যায়, ‘কী করবে?’ পুরুষটি বলে, ‘মরবে’। মহিলা কণ্ঠের পাল্টা প্রশ্ন, ‘পা-গ-ল?’ পুরুষের উত্তর, ‘আমি বললাম, যা খুশি করো।’ মহিলা কণ্ঠে এ বার বলতে শোনা যায়, ‘তোমাকেই ফোন করছে। জানি না, কিছু করবে কি না। যদি কিছু করে-টরে বসে, তোমাকেই ফোন করবে।’ পুরুষটি ফের বলে, ‘আরে হ্যাঁ। আমার তো চাপ হয়ে যাচ্ছে…’। এই অডিও ক্লিপ অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু এর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ফোনের কথোপকথন তৈরি করেছে কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে রাহুল। মৃতার মা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।