নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতবর্ষের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আগামিকাল ১২৮ তম জন্মবার্ষিকী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে নেতাজির অবদান অনস্বীকার্য। তবে নেতাজির মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা এখনও জানে কেউ জানে না! যাই হোক, নেতাজির অনেক তথ্য দেশবাসীর কাছে অজানা। যার মধ্যে একটি হল, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের একটি জমিদার বাড়িতে একসময় অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন নেতাজি। নেতাজির ব্যবহার করা চেয়ার, টেবিল এখনও রয়ে গিয়েছে ওই বাড়িতে। যা কিনা দুর্লভ! কাটোয়া শহরের বারোয়ারিতলায় রয়েছে দেশপ্রেমী ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি, তাঁর বাড়িতেই গিয়েছিলেন নেতাজি।
ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের আরেক সংগ্রামী। অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে, আইন অমান্য আন্দোলন, ভারত ছাড়ো আন্দোলন, সবেতেই ছিল তাঁর বড় অবদান। আর দেশের সকল বিপ্লবীদের সঙ্গে ছিল তাঁর যোগাযোগ। সেই সূত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকেও চিনতেন তিনি। সেই গুণেন্দ্রনাথ বাবুর বাড়িতেই গিয়েছিলেন নেতাজি। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর গুণেন্দ্রনাথ বাবুর বাড়িতে তিনদিন কাটিয়ে ছিলেন নেতাজি। সেই বাড়িতেই আতিথেয়তা গ্রহণ করে ছিলেন তিনি। সেই বাড়ির বৈঠকখানায় একটা ইজি চেয়ারে বসে তিনি দিনরাত বই পড়েছেন। নেতাজির সেই টেবিল-চেয়ার এখনও রয়ে গিয়েছে সেই বাড়িতে।
জানা যায়, গুণেন্দ্রনাথবাবুর বাড়ির সামনেই দোতলায় ছিল তাঁর বৈঠক খানা। সেখানেই চলত নানা মিটিং। সেখানে প্রবেশ করতে হলে লোহার বাঁকানো সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতে হত সবাইকে। সেইভাবে নেতাজিও গুণী বাবুর বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।এমনকী নেতাজি ও গুণেন্দ্রনাথবাবুর একে অপরকে পাঠানো চিঠি এখনও সেই বাড়িতে স্বযত্নে গচ্ছিত রয়েছে। সব মিলিয়ে আজও নেতাজির স্মৃতি বহন করে চলেছে কাটোয়ার গুণীবাবুর বাড়ি।