নিজস্ব প্রতিনিধি: জোড়া অভিযোগে তপ্ত নন্দীগ্রাম(Nadigram)। প্রথম অভিযোগ বিজেপি(BJP) কর্মীদের বিরুদ্ধে। একজন তৃণমূল কর্মীকে মেরে তাঁর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অপরদিকে দ্বিতীয় অভিযোগটি উঠেছে, আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়া উপভোক্তাদের নাম সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার তালিকায় ওঠাকে ঘিরে। এই ক্ষেত্রে অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের(TMC) বিরুদ্ধেই। আর এই জোড়া অভিযোগেই ফের তপ্ত হয়ে উঠছে পূর্ব মেদিনীপুর(Purba Midnapur) জেলার জমি আন্দোলনের পীঠস্থানটি। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশ(Police) এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেনি।
আরও পড়ুন, নবান্ন অভিযানের দিন নেট পরীক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিল পুলিশ
বাড়ি নন্দীগ্রামের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বৃন্দাবন চকের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী গোপাল জানা গত লোকসভা নির্বাচনের আগে স্থানীয় বিজেপির কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই অভিযোগে আক্রান্ত গোপল নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন। বিগত কয়েকদিন ধরে গোপাল জানা নামে ওই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে ওই এলাকারই বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আদালত থেকে কেস তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। অভিযোগ, গতকাল অর্থাৎ শনিবার নন্দীগ্রামের তেখালি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গোপালকে রাস্তায় ঘিরে ধরে তার সঙ্গে প্রথমে বচসা শুরু করে, পরে মারধরও করা হয়। মেরে তাঁর পা ভেঙে দেওয়ায় তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে এবং নন্দীগ্রাম থানায় খবর দিলে তেখালি ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। যদিও বিজেপির বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। পুলিশি তদন্তেই সব ধরা পড়বে। তবে গোপালবাবুর অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরাই তাঁকে মারধর করেছে। পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।
আরও পড়ুন, বাস জট কাটাতে অবশেষে আদালতমুখী হচ্ছে রাজ্য সরকার, খুশি মালিকেরা
অপরদিকে, আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়া সত্ত্বেও নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের অনেকেরই নাম উঠেছে সংখ্যালঘু দফতরের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্পে। আর সেই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর, সামসাবাদ সহ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে ওই তালিকা সংশোধন করার দাবি উঠছে। যদিও নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক জানিয়েছেন, তালিকা ধরে প্রতিটি বাড়ি ভিজিট হবে। আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়া কেউই সংখ্যালঘু দফতরের আর্থিক খরচে পাকাবাড়ি পাবেন না। বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের পর ওই তালিকা সংশোধন হবে। উল্লেখ্য, বিধবা সংখ্যালঘু মহিলাদের পাকাবাড়ি তৈরির জন্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেয়। এজন্য আগেই বিডিও অফিসে আবেদন জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতে প্রাথমিক তালিকা তৈরি হয়। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে এরকম ৪২৩ জনের নাম এসেছে। তাঁদের বাড়ি বাড়ি সার্ভে করার পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। প্রাথমিক তালিকায় অনেক ভূতুড়ে উপভোক্তা আছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে আবাস যোজনায় যারা পাকা বাড়ি পেয়েছেন, তাঁদের নামও রয়েছে এই তালিকায়।