নিজস্ব প্রতিনিধি: এ যেন মর্মান্তিক ঘটনার একেবারে চূড়ান্ত। ফুটন্ত ঘুগনির কড়াইয়ে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল দেড় বছরের শিশুর(Child death)। মর্মান্তিক এই অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বীরভূমের(Birbhum Incident) ধনঞ্জয়পুরে। জানা গিয়েছে, রান্না করার সময় মশলা আনতেই উঠে গিয়েছিলেন গৃহিণী। সেই সময় রান্নার জায়গা থেকে আচমকাই দড়াম করে শব্দ ভেসে আসে তাঁর কানে। দৌড়ে এসে মহিলা যা দেখলেন তাতে তাঁর রক্ত হিম হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ৬৩ দিনের মাথায় মিলল সুবিচার, জয়নগরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় ফাঁসির আদেশ নিম্ন আদালতের
উনুনের পাশে রাখা ঘুগনির কড়াই গড়াচ্ছে। আর তাঁর দুধের শিশুটি পড়ে রয়েছে সেই কড়াইয়ে। একইসঙ্গে শুরু হয় শিশু এবং মায়ের আর্ত চিৎকার। সেই চিৎকার শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। এরপর তড়িঘড়ি সেই দেড় বছরের শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার সত্ত্বেও বাঁচানো গেল না তাঁকে। এদিন শুক্রবার হাসপাতাল থেকে শিশুটির মৃত্যুর খবর(Accidental Death) পাওয়া মাত্রই শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবারে।
স্থানীয় সূত্রের জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আকসাম শেখ। গত সোমবার ছোট্ট আকসামের মা মানুয়ারা বেগম উনুনে ঘুগনি রান্না করছিলেন। উনুন থেকে গরম ঘুগনির কড়াইটি পাশে নামিয়ে ঘরের ভিতরে মশলা আনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েই ঘটে যায় অঘটন। রান্নাঘরে হামাগুড়ি দিতে দিতে ছোট্ট আকসাম পড়ে যায় ঘুগনির কড়াইতে। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ ফের বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিং, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত
দগ্ধ শিশুটিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুরারই হাসপাতালে। সেখান থেকে পরে বীরভূমের রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি দেখে সেখানকার চিকিৎসকরা বর্ধমান মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন ওই শিশুটিকে। শুক্রবার সকালে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।মর্মান্তিক এই ঘটনার পর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন খুদের মা মানুয়ারা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।