নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার রাজভবনের(Kolkata Raj Bhawan) অন্দরে রাজভবনেরই এক মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির ঘটনায়(Molestation Case) বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের(C V Ananda Bose) অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিলেন নির্যাতিতা। তিনি রাজভবনের ঘটনা সবিস্তারে জানিয়ে এ বার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু(Draupadi Murmu) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে(Narendra Modi) চিঠি লিখে পাঠালেন। শুধু তাই নয়, তিনি চিঠি দিয়েছেন, দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়(Jagdeep Dhankar) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও(Amit Shah)। সপ্তাহখানেক আগেই নির্যাতিতা ইমেল মারফত বিষয়টি এই ৪জনকে জানান। তারপর এ সপ্তাহে আরও একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ‘নির্যাতিতা’। ফলে নতুন করে চাপ বাড়তে চলেছে রাজ্যপাল বোসের। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজভবনের ‘শ্লীলতাহানি’র মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টে। এ মাসের গোড়াতেই রাজ্যপাল বোসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ‘নির্যাতিতা’। গত শুক্রবার মামলাটি প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে ওঠে।
সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের ৩ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মোট ৩টি নির্দেশ দেয়। সেখানে প্রথমেই রাজ্যের উদ্দেশে নোটিস জারি করার কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে ওই মামলায় কেন্দ্রকে যুক্ত করতে অনুমতি দেওয়া হয়। বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, যেহেতু ওই মামলায় কেন্দ্র সরকারকে জড়িত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাই কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেলকে ওই মামলায় সবরকমের সহযোগিতা করবেন তা নিশ্চিত করতে হবে। শীর্ষ আদালতের কাছে অভিযোগকারিণীর আবেদন ছিল, সুপ্রিম কোর্ট যাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে কয়েকটি নির্দেশ জারি করে। প্রথমত, জরুরি প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন রাজ্যপালের বয়ান রেকর্ড করতে পারে। দ্বিতীয়ত, অভিযোগকারিণীকে যেন সুরক্ষা দেয় পুলিশ। তৃতীয়ত, অভিযোগকারিণীর পরিচয় গোপন রাখা হয়নি। এর জন্য যেন তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। চতুর্থত, ৩৬১ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা রক্ষাকবচ রাজ্যপাল কতটা ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে বিধি তৈরি করুক শীর্ষ আদালত। যদিও সেই সব নিয়ে আদালত এখনও কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২ মে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজভবনের অস্থায়ী ওই মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগে তদন্ত করা যায় না বলে কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি কলকাতা পুলিশ। খাতায়কলমে অভিযোগ দায়ের না হলেও মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। ডিসি(সেন্ট্রাল) বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন বলেও লালবাজার সূত্রে জানা যায়। পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে রাজভবনের সিসি ক্যামেরার কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযোগকারিণীর বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টাও করছিল। সেই সঙ্গে মহিলাকে পুলিশের কাছে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজভবনের কয়েক জন আধিকারিকের নামে মামলাও রুজু করেছিল পুলিশ। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। এরপরেই গত ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন ‘নির্যাতিতা’।