নিজস্ব প্রতিনিধি: শুধু একজনের একটা ট্যুইট, নড়ে চড়ে বসেতে বাধ্য করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে(Home Ministry of India Government)। রাতারাতি রিপোর্ট তলব করা হল দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF’র কাছ থেকে। নজরে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের(Shantanu Thakur) ইস্যু করা গোমাংস পারাপার(Beef Transportation) করার ‘Permit’। আর এই ঘটনা সর্বভারতীয় স্তরে টেনে এনেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র(Mohua Moitra)। গতকালই তিনি ট্যুইট করেছিলেন শান্তনু ঠাকুরের ইস্যু করা ‘Permit’র ছবি দিয়ে। সেই নিয়ে জোর বিতর্ক বাঁধে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে। যে রাজনৈতিক দল দেশের গোরক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, সেই দলের সাংসদ হয়ে কীভাবে শান্তনু গোমাংস পারাপার করার জন্য ‘Permit’ ইস্যু করলেন সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আর তাতেই নড়চড়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও(Amit Shah)। সোমবার রাতেই তাঁর মন্ত্রকের তরফে BSF’র কাছ থেকে ‘Permit’ ইস্যু নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।
মহুয়ার করা ট্যুইটেই দেখা যাচ্ছে, নিজের লেটারহেডে শান্তনু জিয়ারুল গাজিকে বিনা বাধায় গো-মাংস কারবার চালানোর সুপারিশ করেছিলেন। অবাধে জিয়ারুলকে ব্যবসা চালিয়ে যেতে BSF কর্তাকে লিখিত আবেদন করেছিলেন শান্তনু। প্রশ্ন, দেশের মন্ত্রী হয়ে কীভাবে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কারবার চালাতে শান্তনু এই ‘Permit’ ইস্যু করলেন? প্রশ্ন উঠেছে, যে বিজেপি গো-সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করে সেই দলের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হয়ে কীভাবে শান্তনু গোমাংসের ব্যবসা চালাভবার ছাড়পত্র দিলেন? সূত্রের খবর, গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ সঙ্ঘ নেতৃত্বও। আর তার জেরেই সোমবার রাতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাতেই এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত BSF কর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই ধরনের ‘Permit’র মাধ্যমে কীভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় ব্যবসায় ছাড় দেওয়া হয়? শান্তনু কিন্তু বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি জিয়ারুলকে ‘Permit’ ইস্যু করার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। আর এই পারমিটি নিয়ে এখন তৃণমূল দাবি তুলেছে, তাই নিজের পদ ব্যবহার করেই শান্তনু ঠাকুর পাচারের মতো বেআইনি কাজকে মদত দিচ্ছেন।
এই ঘটনায় বঙ্গ বিজেপির আদি নেতারা কিন্তু বিন্দুমাত্র বিস্মিত নন। এমনকি সঙ্ঘের নেতারাও বিস্মিত নন। কেননা তাঁদের সকলেরই এক সুরে দাবি, এমনটা হবেই। হতে বাধ্য। কেননা দলের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে সকলের জন্য। যে যেখান থেকে পারছে এসে দলে ঢুকে পড়ে হাতে বিজেপির পতাকা তুলে নিচ্ছে। যারা এই সব যোগদান করাচ্ছেন, তাঁরা বিন্দুমাত্র এটা দেখছেন না বা বুঝছেন না যে ভিন দল থেকেব আসা নেতারা বিজেপির আদর্শ ও নীতির সঙ্গে বিন্দুমাত্র পরিচিত নন এবং তাঁরা সে সব মেনে কাজও করছেন না। তাঁরা শুধু বিজেপিকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ পূরণ করে চলেছেন এবং এই সব নব্য নেতাদের জন্য বিজেপি বদনাম হচ্ছে। যতদিন বিজেপিতে ভিন দল থেকে নেতা নেওয়ার প্রক্রিয়া বজায় থাকবে ততদিন এই ধরনের সমস্যাও বজায় থাকবে। সূত্রের দাবি, অমিত শাহ নিজে নাকি শান্তনুর সঙ্গে এই ‘Permit’ ইস্যু নিয়ে কথা বলতে পারেন। সব থেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসাবে এই ‘Permit’ কীভেবে ইস্যু করলেন শান্তনু। এই নিয়ে আদালতে মামলা হলে তিনি আরও বিপাকে পড়বেন।