নিজস্ব প্রতিনিধি: ধর্মতলায় শহিদ তর্পণ দিবসের সমাবেশে হাজির থাকতে সোমবার সকাল থেকেই শহরে পা রাখতে শুরু করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। শহিদ স্মরণে আয়োজিত সভা উপলক্ষে সকাল থেকেই শিয়ালদহ-হাওড়া থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল করে ধর্মতলা রওনা হয়েছেন। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে কর্মী সমর্থকদের হাজির হতে দেখা গিয়েছে ধর্মতলা চত্বরে। তৃণমূলের আমলে কী কী প্রকল্প হয়েছে তার একটা খতিয়ান নিয়ে এককর্মী সমর্থককে দেখতে পাওয়া গিয়েছে ধর্মতলা চত্বরে। সেখানে লেখা রয়েছে উন্নয়নের প্রতীক ও ভালোবাসার প্রতীক। আরও লেখা রয়েছে, সেখানে বিরোধীরা দেখো দুচোখ মেলে মেলে, আমার দিদি প্রকল্প সব পাচ্ছে ঘরে ঘরে। কন্যাশ্রী আর রুপশ্রী যার তুলনা নাই, লক্ষ্মীর ভান্ডার ঠিক সময়ে ঠিক দিনেতেই পাই।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রঙিন-বর্ণময় মিছিল যাচ্ছে ধর্মতলায়। কারও মাথায় তৃণমূলের টুপি, আবার কারও পরনে সবুজ পঞ্জাবি। বেলা বারোটায় সভা শুরুর কথা থাকলেও কয়েক ঘণ্টা আগেই জনসমুদ্রের আকার নিয়েছে ধর্মতলা চত্বর। যে দিকেই তাকানো যাচ্ছে, গিজ গিজ করছে কালো মাথা। শেষ পর্যন্ত ভিড় কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শহিদ তর্পণ সভাকে ঘিরে দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের মুখের হাসি চওড়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাই, ১৯৯৩। কংগ্রেস যুব নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মী। সেই থেকেই প্রতিবছর ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ পালিত হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আগে কংগ্রেস, এখন তৃণমূল তা পালন করে। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই নিয়ে কমিশনও গড়েন। এখনও সেই রিপোর্ট বেরোয়নি। বাম-কংগ্রেসের অভিযোগ, গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া মণীশ গুপ্ত-রচপাল সিংরা এখন মমতার ‘কাছের লোক’। সচিত্র পরিচয় পত্রের দাবিতে নিয়ে সেদিন মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু তেরো জনের শ্রদ্ধায় শহিদ দিবস পালন করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবছরই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন ধর্মতলায়।