নিজস্ব প্রতিনিধি: শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া মাওবাদী নেতা(Maoist Leader) অর্ণব দামের(Arnab Dam) Ph.D. করার পথে কাঁটা বিছিয়েছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়(Burdwan University) কর্তৃপক্ষ। অর্ণব যাতে Ph.D. করার জন্য ভর্তি হতে না পারেন তার জন্য গত ৯ তারিখে Ph.D.-তে ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। সেই ঘটনায় জোর বিতর্ক ছড়ায় রাজ্যের শিক্ষামহলে। এদিন তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ ট্যুইট করে গোটা ঘটনার জন্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম চন্দ্রকেই দায়ী করেছেন। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন যে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কারামন্ত্রী অখিল গিরি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছেন অর্ণবের বিষয়ে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকি কুণাল এটাও জানিয়েছেন, অর্ণবকে হুগলির চুঁচুড়ার জেল থেকে বর্ধমানে জেলে নিয়ে আসা হচ্ছে যাতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর Ph.D.’র ক্লাস করতে কোনও অসুবিধা না হয়। এই আবহে এবার অর্ণবের ঘটনায় নিয়ে মুখ খুললেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(VC) গৌতম চন্দ্র(Gautam Chandra)।
এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার গৌতমবাবুর বাংলার এক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যকে জানিয়েছেন, তিনি অর্ণবের Ph.D. করার বিরুদ্ধে নন। তিনি চান অর্ণব সেটা করুক। কিন্তু তাঁর দু’টি প্রশ্নের সদুত্তর মিললেই যাবতীয় ‘জটিলতা’ কেটে যাবে। তাঁর কথায়, ‘আমি হুগলির জেল সুপারকে চিঠি দিয়ে দু’টি প্রশ্ন করেছিলাম। প্রথম প্রশ্ন, কী ভাবে অর্ণব বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিয়মিত ক্লাস করবেন? সে ক্ষেত্রে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি কে বা কারা দেখবেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন, অর্ণবকে Ph.D. করতে দেওয়ার বিষয়ে জেল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা অনুমোদন রয়েছে কি না। ওই দু’টি বিষয়ের সদুত্তর না মেলায় অর্ণবের Ph.D.-তে ভর্তির বিষয়টি শুরু করা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি বিভাগের মধ্যে কেবল ইতিহাস ছাড়া অন্যগুলিতে Ph.D.-তে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা হুগলি জেলের সুপারকে দেওয়া চিঠির উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছি। অর্ণব ইন্টারভিউয়ে প্রথম হয়েছেন। তাঁকে বাদ দিয়ে আমরা ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারি না।’
এই আবহে অর্ণব যে বিষয় নিয়ে Ph.D. করবেন, সেই ইতিহাস বিভাগ অবশ্য পুরো বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপরে ছেড়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ তনভীর নাসরিন জানিয়েছেন, ‘আমরা একেবারে প্রস্তুত। অর্ণবের ভর্তি প্রক্রিয়া মিটে গেলেই আমরা ক্লাস শুরুর অপেক্ষায় আছি।’ তবে এখন জানা যাচ্ছে, একা উপাচার্য নয়, অর্ণবের Ph.D. করা নিয়ে বেশ আপত্তি আছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের একাংশেরও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, একটা সময়ে AK-47 রাইফেল নিয়ে ঘোরা অপরাধীর Ph.D. করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে কিছু অধ্যাপকের। এমনকি, পড়ুয়াদের একাংশও নাকি ওই বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। পুলিশকে নিয়ে জেলবন্দি অপরাধী Ph.D.’র ক্লাস করতে গেলে অন্য পড়ুয়াদের মনে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও চিন্তিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাংশ।
তবে উচ্চশিক্ষায় গবেষণার ক্ষেত্রে এক জন গবেষককে ‘নিয়মিত’ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ব্যাখ্যা করে উপাচার্য গৌতম চন্দ্র জানিয়েছেন, ‘Ph.D. র ক্ষেত্রে আমাদের ৬ মাসের একটা কোর্স আছে। এই কোর্সে প্রত্যেক গবেষককে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে হাজির থাকতে হয়। এর অনুমতি অর্ণব পাবেন কি না জানি না।’ তা ছাড়াও উপাচার্য জানিয়েছেন, গবেষণাপত্র জমা দিতে হয় ৩ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। দীর্ঘস্থায়ী এই প্রক্রিয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন উপাচার্য। তবে তাঁর আশ্বাস, গবেষণার ক্ষেত্রে অন্য গবেষকদের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সাহায্য পাবেন অর্ণব। তবে লক্ষ্যণীয় ভাবে এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফেও অর্ণব-সহ ইতিহাস বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল পড়ুয়াদের দ্রুত ভর্তি করানোর দাবিতে সরব হয়েছে।