নিজস্ব প্রতিনিধি: গোটা রাজ্যের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টে(Supreme Court) আর জি কর মামলার(RG Kar Issue) শুনানির দিকে। উৎসবের আবহেও সাধারণ মানুষ সন্দীপ ঘোষের(Sandip Ghosh) অবৈধ কাজকর্ম ও দুর্নীতি ইস্যু থেকে কিছুতেই ঘাড় ঘোরাতে পারছেন না। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ফের দেশের শীর্ষ আদালতে উঠছে আর জি কর কাণ্ডের মামলা। চলতি দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে আর জি কর মামলার পরবর্তী শুনানি। ফলে আজ কোন কোন বিষয়গুলি নিয়ে আলোকপাত করা হবে সেদিকেই নজর রাখছেন রাজ্যবাসী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন এই মামলার ষষ্ঠ শুনানি। তদন্ত এখনও পর্যন্ত কতদূর এগোলো, নতুন কোনও তথ্য উঠে এল কিনা, জুনিয়র ডাক্তারেরা নিয়মমাফিক পরিষেবা দিচ্ছেন কিনা, প্রভৃতি বিষয়গুলি উঠে আসছে এদিনের শুনানির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। এছাড়াও পঞ্চম শুনানির পর থেকে মাঝের সময়টিতে তদন্তে সিবিআইয়ের হাতে কি কি তথ্য উঠে এসেছে তাও খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট।
জুনিয়র ডাক্তারেরা আদৌ ঠিকমতো পরিষেবা দিচ্ছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। গত শুনানিতেও একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল তবে সেবার রাজ্যের তরফে জানানো হয় যে, জুনিয়র ডাক্তারেরা শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। যদিও রাজ্যের এই বয়ানে আপত্তি প্রকাশ করেন জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ। তাঁর দাবি, শুধু জরুরি পরিষেবা নয়, প্রয়োজনীয় পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে। এহেন উত্তরে বিচারপতি জানতে চান, তা হলে কি সকল চিকিৎসকরা ডিউটি করছেন না? উত্তরে ইন্দিরা জানান, ‘সব জুনিয়র ডাক্তারেরা জরুরি পরিষেবায় রয়েছেন। জরুরি পরিষেবার মধ্যে ওপিডি ও আইপিডি দুটোই পড়ে।’ এরপরই প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা দিতে হবে জুনিয়র ডাক্তারদের।
এই বিষয়গুলির পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজ কত দূর এগোল, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। আগের শুনানিতেই আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয় কাজগুলি সেরে ফেলতে হবে। এছাড়া আর জি কর কাণ্ডের পর তৈরি হওয়া ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের কাজ কত দূর এগোলো, মঙ্গলবার সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট চাইতে পারে শীর্ষ আদালত। কাজের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে আশা করা হচ্ছে আজকের শুনানিতে আরজি কর মামলার বাঁকবদল ঘটলেও ঘটতে পারে।