Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের শেষ গান কী ছিল? কাকেই বা শুনিয়েছিলেন তিনি ?

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় সংস্কৃতিতে সঙ্গীতের গুরুত্ব অপরিসীম। যুগ যুগ ধরে এই উপমহাদেশে আবির্ভূত সাধক-মহাপুরুষ-মণীষীদের কেউই সঙ্গীতের বাইরে থাকেননি। তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব কর্মের পথে শক্তির অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে সঙ্গীত এসেছে অবশ্যম্ভাবীভাবে। তবে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, কী এই সঙ্গীত ? সহজ ও বোধ্য ভাষায় বলতে গেলে সঙ্গীতের মাধ্যমে “মন ও চিন্তা”— দুই-ই স্বস্তি খুঁজে পায়। তাই ভারতের প্রত্যেক মহাপুরুষেরাই সঙ্গীতকে তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনপথের এক মার্গ রূপে বেছে নিয়েছিলেন।

জানা যায়, এই সঙ্গীতপথেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধনরূপের ধারক ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। এমনকী তাঁর অন্যতম প্রধান শিষ্য বিশ্ববরেণ্য স্বামী বিবেকানন্দও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্য্যন্ত সঙ্গীতের বাইরে যেতে পারেননি। ঠাকুর রামকৃষ্ণের জীবনী পর্যালোচনা করলে জানা যায়, জন্ম থেকেই তাঁর সাধকসত্ত্বার গভীরতা অত্যন্ত অতলে নিহিত ছিল। বাইরের পড়াশুনা তাঁকে জ্ঞানী করে তোলেনি। সমস্ত কিছুই তাঁর অন্তরস্থ ছিল। এ এক বিস্ময়কর উৎসারণ। বিভিন্ন রচনা ও গবেষণায় দেখা যায়, গান তিনি কারও কাছেই শেখেননি। এক অনন্য শ্রুতিধরের ক্ষমতা তিনি ধারণ করতেন। ফলত একবার শুনেই গানটি আত্মস্থ হয়ে যেত তাঁর।

কথিত আছে, শ্রীরামকৃষ্ণদেবের স্ত্রী সারদাদেবীই ছিলেন তাঁর গানের শেষ শ্রোতা। এক বিশেষ প্রবাহ চলেছিল এই গানের মধ্যে দিয়ে– ঠাকুরের দিক থেকে মা সারদার দিকে। তখন ঠাকুরের অবস্থা খুবই খারাপ। কণ্ঠ প্রায় অবরুদ্ধ। অথচ স্ত্রীকে ভবিষ্যতের পথ চেনানোর জন্য তিনি গানকে অনায়াসে গলায় নিয়ে এসেছিলেন। ঠাকুর অনেকদিন থেকেই স্ত্রী সারদাকে এক অন্য সত্তায় উত্তরিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এরপর ‘ফলহারিণী কালীপূজা’-র দিনে ঠাকুর তাঁর স্ত্রীকে মাতৃরূপে আরাধনা করেছিলেন ও এই জগৎসংসারের আশ্রয়দাত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কাশীপুরে থাকার সময়েই ঠাকুর বিশেষভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন সারদামণির মধ্যে জননীরূপী ঐশীশক্তিকে জাগরিত করার এক কঠোর সাধনকর্মে। তিনি বলতেন, ‘ও হচ্চে সারদা, জ্ঞানদায়িনী। মানুষকে জ্ঞান দিতে এসেছে। ও আমার শক্তি।’

ঠাকুরের জীবন সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানতে পারা যায়, এই কাশীপুর উদ্যানবাটিতেই ঠাকুর শ্রীমা’কে তাঁর শেষ গান শুনিয়েছিলেন। সেদিন শ্রীমা ও তাঁর কথোপকথনের মাঝেই গানটি গেয়েছিলেন তিনি। ঠাকুর যেন ‘জননী-সারদা’-কে সৃষ্টি করে তাঁর ভক্তিময় ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিয়ে গিয়েছিলেন।  কাশীপুর উদ্যানবাটিতে শ্রীরামকৃষ্ণ রোগশয্যায় শুয়েছিলেন। তাঁর জন্য রোগপথ্য তৈরি করে, সেই খাবারের বাটিটি নিয়ে শয্যার পাশে বসেছিলেন সারদামণি। ঘরে আর কেউ নেই। সব নিস্তব্ধ। হঠাৎ ঠাকুর আকুল হয়ে স্ত্রীকে বলে উঠলেন, ‘দ্যাখো, কলকাতায় লোকগুলো যেন অন্ধকারে পোকার মতো কিলবিল করছে। তুমি তাদের একটু দেখো।’ অবাক ও লজ্জাবনত হয়ে সারদাদেবী বললেন, ‘আমি মেয়েমানুষ। আমার পক্ষে তা কি করে সম্ভব?’ এবার পরমহংসদেব নিজের দেহটি দেখিয়ে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘এ আর কী করেছে? তোমায় এর চাইতে অনেক বেশি করতে হবে।’ সারদামণির মনে হল, কথায় কথা বাড়ে। তাঁর স্বামীর যা শরীরের অবস্থা, উত্তেজনা ক্ষতিকর হতে পারে। তাই তিনি প্রসঙ্গটিকে চাপা দেবার জন্য সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন— ‘সে যখন হবে, তখন হবে। তুমি এখন পথ্যিটা খেয়ে নাও তো।’ এরকম অবস্থায় ঠাকুর গেয়ে উঠলেন সেই গান। গানটি ঝিঁঝিট রাগে ঢিমে তেতালায় নিবন্ধ। গানটি প্রাচীন বাংলার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দ অধিকারীর রচনা।

এসেছি ঠেকেছি যে দায়, কারে কর দায়।

যার দায় সেই তো জানে, পর কি জানে

পরের দায়

মরে দায়ে কতবার রূপ ধরি,

কখন পুরুষ হই সই কখন হই নারী,

হয়ে বিদেশিনী নারী, লাজে মুখ দেখাতে নারি,

কথা বলতে নারি কইতে নারি

নারী হওয়া বিষম দায়।

যার দায়ে কতবার কত রূপ ধরি,

জহরিণী নাপতিনী হয়ে চরণ ধরি,

রাখবো না আর কাল অঙ্গ, স্বরূপে মিশাব অঙ্গ

হবে গৌরাঙ্গ বর্ণ দেখাইব দাও বিদায়।

গানটি গেয়েই পরমহংস ঠাকুর তাঁর স্ত্রীকে বলে উঠেছিলেন, ‘ওগো, শুধু কি আমারই দায়? তোমারও যে দায়।’

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

মহেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

মেয়েকে আগলে নিয়ে গণপতি দর্শনে ঐশ্বর্য, ভিড়ের মাঝেও ভক্তদের আবদার মেটালেন নায়িকা

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

0:00