নিজস্ব প্রতিনিধি: কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের নয়নের মণি নেটপ্রভাবী শর্মিষ্ঠা পানোলির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ওয়াজাহাত খানকে বড়সড় স্বস্তি দিল শীর্ষ আদালত। সোমবার (২৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন ও এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াজাহাতকে গ্রেফতারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
পহেলগাঁও কাণ্ডের প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বলিউড তারকারা নীরব থাকায় তাঁদের বিঁধে সমাজমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের নয়া ‘পোস্টার গার্ল’ শর্মিষ্ঠা পানোলি। ওই ভিডিওতে বলিউড তারকাদের নিশানা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, এমনকী মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও ‘বিদ্বেষ’ উগরে দিয়েছিলেন। ওই ভিডিও নিয়ে শোরগোল হতেই তড়িঘড়ি মুছে ফেলেন কলকাতার আনন্দপুরের অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা। যদিও তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ এনে খিদিরপুর থানায় নালিশ ঠোকেন ওয়াজাহাত খান। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ মে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় পুণের এক আইন কলেজের পড়ুয়া শর্মিষ্ঠাকে। আর ওই গ্রেফতারি নিয়ে রে-রে করে ঝাঁপিয়ে পড়ে গেরুয়া বাহিনী। গত ৫ জুন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
শর্মিষ্ঠা গ্রেফতার হওয়ার পরেই মামলাকারী ওয়াজাহাতের বিরুদ্ধে আসরে নেমে পড়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। গলফ গ্রিন-সহ একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে হিন্দু দেব-দেবীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে পাল্টা নালিশ টোকা হয়। ২ জুন ‘শ্রীরাম স্বাভিমান পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের তরফে মামলা দায়ের করা হয়। সমাজমাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীরা অবিলম্বে ওয়াজাহাতকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়। আর তাতে চাপে পড়েই ওয়াজাহাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠায় গলফ গ্রিন থানা। যদিও গত ১ জুন থেকে উধাও হয়ে যান শর্মিষ্ঠা পানোলোর বিরুদ্ধে মামলাকারী। তিন তিন বার হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছিল। সেই সমন উপেক্ষা করার অপরাধে গত কয়েকদিন ধরেই ওয়াজাহাতকে খুঁজছিল পুলিশ। অবশেষে সোমবার (৯ জুন) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার এক বহুতল থেকে গ্রেফতার করা হয় ওয়াজাহাতকে।
শুধু বাংলায় নয়, শর্মিষ্ঠার অনুসারী কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা ‘মুসলিম’ ওয়াজাহাতকে চরম শিক্ষা দিতে অসম, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও হরিয়ানাতেও অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শর্মিষ্ঠার বিরু্দ্ধে অভিযোগকারীকে সবক শেখাতে কোমর কষে ঝাঁপায় চার রাজ্যের পুলিশ। বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে জীবন সংশয় হতে পারে আশঙ্কা করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ওয়াজাহাত।