নিজস্ব প্রতিনিধি: বেশ পরিকল্পনা করেই গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছেন রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকেরা(Private Bus Owners)। রাজ্য সরকার লকডাউন পর্বে বাসের ভাড়া বাড়াতে রাজী না হলেও অনেক বেসরকারি বাসই দফায় দফায় নিজেদের মতো করে ভাড়া(Fare) বাড়িয়ে নিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আপত্তি জানালেও পরে সেটা মেনে নিতে একরকম বাধ্য হয়েছেন যাত্রীরা। যার জেরে কোভিডের আগে যে ভাড়া ছিল ১৫টাকা, সেটাই এখন কোথাও হয়েছে ২৫ টাকা, কোথাও ৩০ বা ৪৫ টাকা। যদিও বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন ভাড়াবৃদ্ধির কথা মানতে নারাজ। উল্টে তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং কয়েক বছর ধরে ভাড়া না-বাড়ায় পরিস্থিতি সামলাতে যাত্রীদের থেকে সামান্য কিছু ‘অনুদান’ নিচ্ছেন বাসকর্মীরা। যাত্রীরাও এতে আপত্তি করছেন না। শুনলে চমকে উঠবেন, নিজেদের মতো করে ভাড়া ঠিক করে নেওয়ার পরে এই অবৈধ ‘অনুদান’কেই সরকারি অনুমোদনে পরিণত করতে চাইছেন বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন। তাতে সরকার রাজী না হলে প্রথমে আন্দোলন, তারপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের(Bus Strike) পথে হাঁটার পরিকল্পনা নিচ্ছেন বেসরকারি বাস মালিকেরা।
আরও পড়ুন, প্রতিবাদের ‘শাস্তি’, চাকায় পিষে খুন, স্তম্ভিত খোদ পুলিশও
কী বক্তব্য বেসরকারি বাস মালিকদের? তাঁদের বক্তব্য, বছরের বেশির ভাগ সময়েই ব্যবসায় মন্দা চলছে। অফিসটাইম ছাড়া বাসে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়েছে কিছু রুটে মেট্রো চলাচল এবং অটো-টোটোর দাপট। বাস চালিয়ে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, ঘরের টাকাই বেড়িয়ে যাচ্ছে তেল কিনতে, বাস সার্ভিস করাতে। এরওপর আছে পুলিশ আর সিভিক ভলান্টিয়ারদের অত্যাচার। এই সব সমস্যার সমাধানে বেশ কয়েকবার রাজ্যের পরিবহণ দফতরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সমস্যার সমাধানও হয়নি। তাই এবার তাঁরা কঠিন পদক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারকে ভাড়া বাড়াতে হবে এবং তা বর্তমান ভাড়ার সঙ্গে সমতুল্য হতে হবে। নাহলে রাস্তা থেকে বাস তুলে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হবেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বৃহত্তম বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন All Bengal Bus-Minibus Coordination Association বা সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘হাত গুটিয়ে বসে থাকা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। ভাইফোঁটার পর আন্দোলন শুরু করব, প্রয়োজনে ধর্মঘট হবে।’
আরও পড়ুন, ‘ডানা’র মোকাবিলায় কোমর বাঁধছে কলকাতা, তড়িদাহত হয়ে প্রাণহানী ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা
রাজ্যের কী ভাবনা? রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বাসের ভাড়া বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই আমাদের। ওরা অনুদানের নামে যেটা করছেন, সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারের খাতায় ভাড়ার যে স্ল্যাব ঠিক করা আছে, সেই স্ল্যাব বাড়ানো হবে না।’ ঘটনা হচ্ছে, বেসরকারি বাস মালিকেরা যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটে যান তাহলে সব থেকে বেশি পোয়াবারো হবে অটো ও টোটো চালকদের। তবে সেক্ষেত্রে পকেট খালি হবে আমজনতার। বেসরকারি বাস রাস্তা থেকে উঠে গেলে যারা শুধুমাত্র সেই সব বাসের ওপর নির্ভরশীল তাঁদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে। কিন্তু যাদের নিত্যদিনের যাতায়াতে ট্রেন, মেট্রো, সরকারি বাস মেলে বা অটো-টোটোর সুবিধা মেলে তাঁদের খুব একটা অসুবিধা হবে না। কিন্তু যারা শুধুমাত্র বেসরকারি বাসে করে নিত্যদিনের যাতায়াত সারেন তাঁরা বড়সড় সমস্যায় পড়ে যাবেন। তবে ঠিক কত তারিখ থেকে সেই বেসরকারি বাস ধর্মঘট হবে তার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই বিষয়ে বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠনগুলি বৈঠক করে ভাইফোঁটার পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই জানা গিয়েছে।