নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিককালে রাজ্যের ৪ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের ৪ প্রার্থী। উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন কৃষ্ণ কল্যাণী, দক্ষিণবঙ্গের নদিয়া জেলার রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন মুকুটমণি অধিকারী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন মধুপর্ণা ঠাকুর এবং কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সুপ্তি পাণ্ডে। এই ৪ বিধায়কের শপথ বাক্য পাঠ করানোকে ঘিরে এখন নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে রাজভবন ও রাজ্য বিধানসভার মধ্যে। এদিন অর্থাৎ সোমবার থেকে রাজ্য বিধানসভায়(West Bengal State Assembly) শুরু হয়েছে বাদল অধিবেশন। আর শুরুর দিনেই বিধানসভার অধ্যক্ষ(Speaker of the Assembly) বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়(Biman Banerjee) জানিয়ে দিলেন রাজ্যপালকে ছাড়াই মঙ্গলবার বিধানসভায় ৪ সদ্য জয়ী বিধায়কের(4 Newly Elected MLA) শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান(Oath Taking Process) হবে।
৪ নতুন বিধায়কের শপথ করানোর জন্য প্রথামাফিক রাজভবনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল বিধানসভার সচিবালয়। কিন্তু যথারীতি পুরনো ঘটনা টেনে টালবাহানা শুরু করে রাজভবন। কেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রেয়াত হোসেন সরকারদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব উপাধ্যক্ষকে দেওয়ার পরও অধ্যক্ষ পড়ালেন সেসব নিয়ে জবাব চান। গত শুক্রবার সেই চিঠির জবাব দিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, কোন পরিস্থিতিতে সায়ন্তিকা আর রেয়াতের শপথ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিধানসভার পরিষদীয় রীতির কথা উল্লেখ করেন স্পিকার। তাতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু রীতি অনুযায়ী, অধিবেশন চলাকালীন স্পিকার সেখানে থাকলে ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে পারেন না। তাই সেই নিয়ম মেনে স্পিকারকেই বিধায়কদের শপথের দায়িত্ব তুলে দেন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর পর শপথ নিয়ে রাজ্যপালের তরফে আর পরবর্তী কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ৪ সদ্য জয়ী বিধায়কের শপথ। ওইদিন নিট নিয়ে একটি প্রস্তাব পেশ হবে। বুধবার তা নিয়ে ঘণ্টাদুয়েক আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তাছাড়া কাল রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকও বসার কথা আছে। তবে সবার নজর থাকবে ৪ বিধায়কের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের দিকেই।