Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণীর মন্দিরই ছিল নেতাজির শক্তির উৎসস্থান

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :  “ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়, তোমারি হউক জয়।“

সুভাষচন্দ্র বসু থেকে যখন তিনি নেতাজি হয়ে উঠেছিলেন, শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্বই বোধহয় বিস্মিত হয়েছিল। পরাধীন ভারতবর্ষের একজন নেতার এই অপরিসীম অদম্য শক্তির পরিচয় আক্ষরিক ভাবেই অবাক করেছিল পৃথিবীর তাবড় তাবড় নেতৃবর্গকে। যদি একটু ফিরে দেখা যায়, যে, সেই শক্তির উৎস ঠিক কোথায়, তবে আরও একবার বিস্মিতই হতে হয়। কারণ, তাঁর নেতাজি হয়ে ওঠার নেপথ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল অন্যতম। তবে উল্লেখ্য বিষয় এই যে, নিজেকে তৈরি করার সেই পর্বে তাঁর মূল আশ্রয় হয়ে উঠেছিল দক্ষিণেশ্বরের মা জগদীশ্বরী ভবতারিণীর মন্দির। জানা যায়, মাঝেমধ্যেই নেতাজি এই দেবালয়ে আসতেন। তারপর নৌকো করে গঙ্গা পেরিয়ে যেতেন বেলুড় মঠে। গলায় অবিরত লেগে থাকত মায়ের গান।

সেদিনের ভারতকে অন্ধকারের মাঝে আলোর পথ দেখাতে সপ্তর্ষি মণ্ডল থেকে যে ঋষি নেমে এসেছিলেন, তিনিই স্বামী বিবেকানন্দ। দেবতাদেরও অগম যে সাধনার স্তর, সেখানেই তাঁর অধিষ্ঠান। এমন উপলব্ধি ছিল স্বয়ং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের। বিবেকানন্দ শুধু দেশের আত্মিক উন্নতির চেষ্টাই করেননি, বরং এই দেশে ধর্মাচরণের সংজ্ঞাটিকেই বদলে দিয়েছিলেন। ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে উঠেছিল দেশের মুক্তিসাধনা। তাঁর গুরুর মন্ত্র ছিল, শিব জ্ঞানে জীব সেবা করার। বিবেকানন্দ সেই মন্ত্রটিকে চালিত করেছিলেন দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে। যার সার্থক উত্তরসূরি হয়ে উঠেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বিবেকানন্দ ও সুভাষচন্দ্র – প্রকৃতপক্ষে দুজনেই ছিলেন সন্ন্যাসী এবং সৈনিক – ভিন্ন অর্থে ও প্রেক্ষিতে তাঁরা ভাস্বর। ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিত-রায় তাঁর ‘ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব’ গ্রন্থে যথার্থই লিখছিলেন ” আদর্শের বিনিময়ে আপোস করার প্রবৃত্তি তাঁর চিত্তকে কোনকালে বিড়ম্বিত করতে পারল না। কারণ, তাকে নিয়ত প্রাণশক্তি দান করতে থাকলেন দূর গগনে দীপ্যমান সূর্যের মতো মহাবীর্যবান অপর এক আপসহীন সংগ্রামী- স্বামী বিবেকানন্দ। …দেশবাসী আজ বিস্ময় ও শ্রদ্ধায় বিশ্বাস করে যে, বিবেকানন্দের সর্বসত্তাই বুঝি সুভাষচন্দ্রের মধ্যে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে ভারতবর্ষকে ধন্য করেছে।” দক্ষিণেশ্বরকে আশ্রয় করে সুভাষের এই শক্তি-সন্ধান তাই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ঐতিহাসিক পরম্পরাই। স্বামীজী আর নেতাজি দুজনেই মা ভবতারিণীর কাছে জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি আর শক্তি চেয়েছিলেন, আর অর্জনও করেছিলেন ঠিক তাই।

কথিত আছে, নেতাজি যেখানেই যেতেন তাঁর সঙ্গে থাকত গীতা, জপের মালা এবং  মা ভবতারিণীর পায়ের শুকনো জবাফুল। বুঝতে কম বিলম্ব হয় না যে, শক্তি সঞ্চয় করতে মায়ের চরণই ছিল নেতাজির প্রিয় স্থান। কিছু নথি থেকে জানা যায়, যখন চিরতরে তিনি এই দেশ ছাড়বেন, সেই মহানিষ্ক্রমণের আগে দক্ষিণেশ্বরে মায়ের পায়ের ফুল ও চরণামৃত আনতে পাঠিয়েছিলেন দুই খুড়তুতো ভাইজি ইলা এবং বেলাকে। এর এক কী  দু’দিন পরেই ঘটেছিল নেতাজির মহানিষ্ক্রমণ। নেতাজি সব অর্থেই ছিলেন বৈদান্তিক জাতীয়তাবাদে গড়ে ওঠা একজন মহামানব। তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তির উপাসনাও করতেন । তাঁকে যখন কারাগারে বন্দি করে রাখা হত, তখন বেশিরভাগ সময়ই তিনি মা কালীর ধ্যান করতেন। এমনকী যখন চিঠি লিখতেন, সবার উপরে লিখতেন ‘কালী মাতা’। তাঁর মতো দেশনায়ক এই পীঠস্থানে এসে সেই সাধনার ধারাকে নিজের মধ্যে বহন করেছিলেন। সারা দেশে তাঁকে নিয়ে অসংখ্য প্রত্যাশার মধ্যে দেশবাসীকে অবাক করে যাওয়ার আগে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মায়ের পায়ের ফুল নিয়ে তবেই গিয়েছিলেন। আর, তাঁর এই যাওয়া তো যাওয়া নয়, আসলে থেকে যাওয়া। যেভাবে সাধনার ইতিহাসে থেকে যান সন্ন্যাসীগণ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং শক্তিসাধনার ইতিহাস- এই দুই ক্ষেত্রেই তিনি ভাস্বর, প্রণম্য, অবিস্মরণীয়।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00