নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১২০ দিন দীর্ঘ লড়াই করেও মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন মেদিনীপুরের স্যালাইনকাণ্ডে অসুস্থ নাসরিন খাতুন। গত ১২ জানুয়ারি থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। প্রায় ৪ মাস লড়াই করার পর অবশেষে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
জানা গিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নাসরিন। তারপর তাযংকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। সেই স্যালাইন ছিল রিঙ্গাস ল্যাকটেট। বেশ কয়েকজন প্রসূতিকে ওই স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারমধ্যে নাসরিন একজন। নাসরিন সহ আরো ২জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। মস্কিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যহত হওয়ার সঙ্গে কিডনিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। শারিরীক অবস্থার উন্নতির জন্য ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। আচমকাই ৯ মে শরীর খারাপ হতে থাকে। ফেরা হল না বাড়ি।
নাসরিনের পরিবারের কথা, ৯ মে রাত থেকে ফের খিঁচুনি, বমি শুরু হয়েছিল নাসরিনের। রবিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। ১২ জানুয়ারি থেকে এতদিন এসএসকেএম-এ ভর্তি ছিলেন কেশপুরের বাসিন্দা নাসরিন। সুস্থ হয়ে শিশুকে কোলে নেবেন সেই আশআই ছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরে নিজের সন্তানকে কোলে নেওয়া তাঁর আর হল না।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সূত্রে খবর, রবিবার রাতে ডায়ালিসিস দেওয়া হচ্ছিল। তখনই মাল্টিঅর্গান ফেলিওর হয়ে নাসরিন খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। এসএসকেএমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। তারপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে নাসরিনকে।