নিজস্ব প্রতিনিধি : এযেন চশমা বিতর্ক। কারও চশমার দাম ২৫ হাজার, কারও ৮ হাজার। কারও আরও বেশি। এবার থেকে নিজের ইচ্ছে মতোদামের চশমা কিনে পড়তে পারবেন না বিধায়করা। তাঁরা বেতন-ভাতা সহ একাধিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। এমনকি চশমা কিনলেও তার বিল জমা করেন বিধানসভায়। এই নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু কোনও রকম বিতর্কে যেতে চায়না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। এখন থেকে চশমার জন্য বড় অঙ্কের বিল বানিয়ে বিধানসভায় জমা দেওয়া যাবে না। সেই টাকার অঙ্কও বেধে দিয়েছে বিধানসভা।
বিধানসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার থেকে বিধায়কদের চশমা বানাতে হবে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। চশমা বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বিধায়কদের জন্য। বলা হয়েছে, অনেকেই নিজের ইচ্ছে মতো বিপুল টাকার চশমা বানিয়ে সেই বিল জমা করেন বিধানসভায়। এবার থেকে তা আর হবে না। সেই সুযোগ পাবেন না তাঁরা। ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চশমার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত টাকা পান বিধায়করা। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিলে অনেক টাকা রয়েছে। বেশ কয়েকজন বিধায়ক কয়েক লক্ষ টাকা চিকিৎসার বিল জমা করেছেন। বিধানসভার স্পিকার বিলগুলো খুঁটিয়ে দেখেছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি সেই বিধায়ক ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন তিনি। সেখানে দেখা গিয়েছে, কোনও বিধায়ক দৈনিক কেবিন বেডের জন্য ২৫ হাজার টাকা বিল জমা করেছেন। তারপরেই স্পিকার জানিয়েছেন, একজন বিধায়ক সর্বাধিক দৈনিক ৮ হাজার মূল্যের বেড ভাড়া এবং চশমার জন্য পাঁচ হাজার টাকা পাবেন। এর থেকে বেশি পাবেন না।
বাম আমলেও বিধায়কদের চশমার দাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তৃণমূল বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র এবং কাঞ্চন মল্লিকের মোটা অঙ্কের বিল নিয়েও শোরগোল পড়েছিল। এবার শক্ত হাতে লাগাম টানার ব্যবস্থা করেছে বিধানসভা।