নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসকদের যাবতীয় চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়ে বুধবার মহাষষ্ঠীর রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার তথা ‘বিতর্কিত’ শিল্পপতি রতন টাটা। আর প্রবীণ শিল্পপতির আকস্মিক প্রয়াণ সংবাদ যেন অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাত। প্রথমে খবরটা পেয়ে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। রাতেই প্রবীণ ও বিতর্কিত শিল্পপতির প্রয়াণ সংবাদ পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধারের মৃত্যুকে তিনি শিল্পমহল ও সমাজের পক্ষে অপূরণীয় ক্ষতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বাম জমানায় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বদান্যতায় সিঙ্গুরের কৃষকদের উর্বর জমিতে ন্যানো কারখানা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রয়াত চেয়ারম্যান। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পসংস্থার নেকনজরে থাকার লোভে এক লাখি গাড়ির কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমির চেয়ে টাটা গোষ্ঠীকে অনেক বাড়তি জমি তুলে দিয়েছিল সিপিএম সরকার। কার্যত গরিব কৃষকদের পেটে লাথি কষিয়ে বুর্জোয়া শিল্পপতিকে খুশি করার খেলায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। গরিব কৃষকদের জমি জোর করে কাড়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অদম্য আন্দোলনের জেরেই কারখানা গড়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠতে হয়েছিল টাটা গোষ্ঠীকে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘শত্রু’ হিসাবেই মনে করেছিলেন প্রয়াত রতন টাটা। এমনকি পরোক্ষে সিপিএমকে ভোট দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছিলেন। যদিও রতন টাটার ফাঁদে পা দেননি বাংলার মানুষ। উল্টে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে ‘টাটা বান্ধব’ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারকে গলাধাক্কা দিয়ে ক্ষমতা থেকে বিদায় করেছিল। তার পরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। রতন টাটার সঙ্গে মমতার তিক্ত সম্পর্ক রয়েই গিয়েছিল।
তবুও প্রবীণ শিল্পপতির প্রয়াণের খবর পেয়েই শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এমেরিটাস রতন টাটার আকস্মিক প্রয়াণের খবর পেয়ে শোকাহত। টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ছিলেন ভারতীয় শিল্পের একজন অগ্রণী নেতা এবং একজন জন-উৎসাহী জনহিতৈষী। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় ব্যবসায়িক জগৎ ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার পরিবারের সকল সদস্য ও সহকর্মীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’
Saddened by the demise of Ratan Tata, Chairman Emeritus of the Tata Sons.
The former Chairman of Tata Group had been a foremost leader of Indian industries and a public-spirited philanthropist. His demise will be an irreparable loss for Indian business world and society.
My…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 9, 2024