নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় মোড়। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বিরুদ্ধে ইডির তৈরি চার্জশিটে অনুমোদন দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বুধবার আদালতে এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। রাজ্যপালের অনুমোদন করার পরেই আদালতে গৃহীত হয়েছে চার্জশিট। স্বভাবতই রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রীকে আদালতে তলব করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে সমন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী চন্দ্রনাথের বিচার প্রক্রিয়ার জোট যেন কেটেও কাটতে চাইছিল না। চলতি মাসের শুরুর দিকে কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে রাজ্যের কারামন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। কিন্তু পাওয়া যায়নি রাজভবন থেকে চার্জশিটের অনুমোদন। তাতে ধাক্কা খায় চন্দ্রনাথ সিংহের বিচার প্রক্রিয়া। আদালতে কাছে ইডি জানায়, রাজ্যপালের কাছ থেকে চার্জশিটে অনুমোদন মেলেনি। সেই কারণেই সাক্ষীদের থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। এ বার সেই জট কাটল। মিলল অনুমোদন। ফলে কাটল বহু প্রতীক্ষিত জোট। রাজভবনের অনুমোদন মেলায় এবার কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রীর বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িয়েছে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের নাম। এরই নিয়োগ মামলার সূত্র ধরেই প্রথম উঠে আসে বলাগড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের নাম। তারপরেই জড়িয়ে যায় চন্দ্রনাথ সিংহের নাম। তারপর থেকে বারবার তলব করা হয়েছে চন্দ্রনাথ। প্রথম দিকে বার দুয়েক এড়িয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরে ইডির মুখোমুখি হন চন্দ্রনাথ। মন্ত্রী জানান ইডির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন তিনি। সব নথিও জমা দিয়েছেন।
এর আগে তদন্ত চলাকালীন চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে মন্ত্রীর বাড়ি থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে ইডি। হেফাজতে নেওয়া হয় মন্ত্রীর মোবাইল ফোন। সেটি খোলার জন্য চন্দ্রনাথকে ডেকেছিলেন ইডি আধিকারিকরা। কিন্তু তা এড়িয়ে যান রাজ্যের মন্ত্রী। এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ চার্জশিটে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।