নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের একবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিকতার প্রমাণ মিলল। শুক্রবার (১৫ অগস্ট) সকালে পূর্ব বর্ধমানে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত ১১ জনের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি গুরুতর আহতদের এক লক্ষ টাকা এবং তুলনামূলক কম আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতরা সবাই বিহারের বাসিন্দা। বাংলার বাসিন্দা না হওয়া সত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা, তার মানবিকতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিহারের মতিয়ার থানা চিরাইয়া সারসওয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা ৪৫ জন পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে স্নান সেরে তারকেশ্বর হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এদিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ফাগুপুর এলাকায় পুণ্যার্থীদের বাসটি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ১২ চাকার লরিকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই অনেকে গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেশ কয়েকজনককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। চিকিৎসকেরা সেখানে ১১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিভাবে ওই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই বাসের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
এদিন বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চা-চক্রে যোগ দিতে রাজভবনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই সাংবাদিকদের তিনি জানান ‘মানবিকতার কারণেই পূর্ব বর্ধমানে এদিন সকালে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তুলনামূলক কম আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্যও জেলাশাসক আয়েশা রানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।