নিজস্ব প্রতিনিধি: একাদশ আর দ্বাদশ শ্রেনীকে ধরা হয় উচ্চশিক্ষার প্রাথমিক পাঠ হিসাবে। সেই উচ্চমাধ্যমিক(Higher Secondary) স্তরেই কিনা গত ২০১৬ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছর পর্যন্ত ১৩ লক্ষের মতো পড়ুয়া(13 Lakh Students of Class 11) একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েও দ্বাদশ শ্রেনীতে আর ভর্তি হয়নি। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ(WBCHSE) তাঁদের ফের রেজিস্ট্রেশন(Registration) করিয়ে সিমেস্টার পদ্ধতিতে শুরু হওয়া উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সুযোগ দিতে চায়। সেই দরজা আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই ডাকে সাড়া দিয়েছে মাত্র দেড় হাজার পড়ুয়া। কেন এত কম সাড়া, সেটাই ভাবাচ্ছে পর্ষদকে। অনেকেই মনে করছেন দীর্ঘ লকডাউনের(Lockdown) জেরে অনেকেরই ঘরসংসারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। আর তাই সংসারের হাল ধরতে এই পড়ুয়াদের কেউ হয়তো কাজে নেমে পড়েছেন, আবার কারও বা বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কেননা এই ১৩ লক্ষ পড়ুয়াদের মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ই আছে।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩ লক্ষ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই স্কুলছুট।যদি ধরা যায় কোনও বছরে উচ্চদমাধ্যমিক পরীক্ষায় গড়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ পরীক্ষার্থীর নাম রয়েছে, তা হলে নানা কারণে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার পরীক্ষায় বসে না। যেমন চলতি বছরেই দেখা গিয়েছে, ৭০ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী এ বার উচ্চমাধ্যমিকে বসেননি, অথচ তারা কিন্তু একাদশে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। যারা বসছে না, তাদের অধিকাংশই ড্রপ আউট। এরা হয়তো কেউ কাজে চলে যাচ্ছেন, কেউ ছোটখাটো দোকান খুলছেন। কারও আবার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এদের আবার ফিরিয়ে আনার জন্যই এ বছর নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে তাদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসানো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেই কার্যত সাড়া দিচ্ছে না সেইসব স্কুলছুটরা। ১৩ লক্ষের মধ্যে মাত্র দেড় হাজার নতুন করে উচ্চমাধ্যমিকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে।
লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার স্কুলছুট হওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একটা বড় অংশও। তাঁদের অভিমত, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেও কত জন ভিন রাজ্যে কাজে চলে যাচ্ছেন! একাদশে পাশ করতে না পেরে ড্রপ আউটের প্রবণতা আরও বেশি। পড়াশোনার উৎসাহ হারাচ্ছেন পড়ুয়ারা। অনেক পড়ুয়াই প্রথাগত পড়াশোনায় না-গিয়ে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজছেন। প্রথাগত পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। এটা যথেষ্ট চিন্তার। তবে এর পাশাপাশি, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এত সংখ্যক স্কুলছুট হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে মাঝের দু’টি বছর লকডাউনকে দায়ী করছেন সংসদ কর্তারা। কারণ, এই দুই বছর ড্রপ আউট আরও বেশি ছিল। তবে সংসদ সভাপতির আশা আগামী দিনে পরিস্থিতির নিশ্চয় কিছুটা উন্নতি হবে।