নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী বছরের ৫-৬ ফেব্রুয়ারিতে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বসতে চলেছে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন (বিজিবিএস)। রাজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দিগন্ত খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিল্প সম্মেলন সফল করতে প্রস্তুতি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টের সময়ে আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে এই বৈঠক হবে। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, সচিব, পদস্থ আধিকারিক এবং শিল্প ও বণিকসভার পদাধিকারীরা থাকবেন।
এর আগে সপ্তম বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসর বসেছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। সেই হিসাবে চলতি বছরের নভেম্বরে এই সম্মেলনের বসার কথা। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রায় ৪ মাস রাজ্যে সেভাবে কোনও কাজই হয়নি নানা বিধিনিষেধের কারণে। তারপরে পরেই বর্ষা এবং উৎসবের মরশুম। এই অল্প সময়ের মধ্যে সব কিছু গুছিয়ে করে ওঠা সম্ভব নয় বলেই মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এবছর আর বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসর বসছে না। পরিবর্তে তা বসতে পারে আগামী বছরের গোড়ার দিকে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী খোলসা করেননি যে ঠিক কোন সময়ে সেই আসর বসবে।
২০২৫ সালে যে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আসর বসতে চলেছে তা অষ্টম দফায় পা দিতে চলেছে। এই সম্মেলন যাতে সফল করে তোলা যায় তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয় বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। তাতে দেশ-বিদেশের শিল্পোদ্যোগীরা অংশ নেন। সম্মেলন সফল করার জন্য দেশে ও বিদেশে আগাম বিশেষ প্রচার অভিযান চালায় রাজ্য সরকার। অষ্টম বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে দেশের কোন শিল্পপতিরা অংশগ্রহণ করবেন, কে কোন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বা বিনিয়োগ বার্তা দেবেন সেই দিকে সবাই তাকিয়ে থাকেন। তবে বিগত সম্মেলনগুলিকে ঘিরে বিরোধীরা বার বার দাবি তুলেছে যে, যে সব বিনিয়োগ বার্তা এই সম্মেলনে শিল্পপতরা দেন তার সিকি ভাগও তাঁরা বাস্তবে রূপায়িত করেন না। কার্যত সম্মেলনে এসে মুখ্যমন্ত্রীর মানরক্ষার কাজটুকুই করেন তাঁরা। তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ রাজ্য সরকার ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দাবি, বিরোধীরা রাজ্যের কোনও উন্নয়নই দেখতে পায় না। রাজ্যে শিল্পের মাঠে বিনিয়োগও আসছে, সেই প্রকল্প গড়েও উঠছে এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে শাসক দলের অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসক দলের পক্ষ থেকে লাগাতার শিল্পপতিদের চাপ দেওয়া হচ্ছে যাতে তাঁরা বাংলায় বিনিয়োগ না করেন বা বিনিয়োগের বার্তা দিলেও তা যেন বাস্তবে রূপদান না করেন।