নিজস্ব প্রতিনিধি : সম্প্রতি রাজ্যে একের পর এক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই হারে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। পথ দুর্ঘটনা রুখতে এবার পলিসি রিপোর্ট বানাল খড়গপুর IIT। বৃহস্পতিবার(১৪ নভেম্বর) রাজ্য সরকারকে তারা সেটা জমা দেয়। এই রিপোর্টে তাঁরা উল্লেখ করেছেন দুর্ঘটনার আসল কারণ ৷ এই কারণ শুনলে চমকে যাবেন আপনিও।
খড়গপুর IIT এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুল দিকনির্দেশনা, ভুল রোড ইঞ্জিনিয়ারিং, গতির ফারাক, নজরদারির অভাব সহ আরও অন্যান্য কারণ।রিপোর্টে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, অধ্যাপক ভার্গব মৈত্র্য জানাচ্ছেন, গতি হচ্ছে দুর্ঘটনার আসল কারণ ৷ সেই গতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক ব্যবস্থা রাখা উচিত। এই রিপোর্টে উঠে এসছে একাধিক কারণ। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
১)চালকদের অনেকেই আছেন, যাঁদের হাইওয়ে ধরে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। ২)রাস্তায় যথাযথ নির্দেশিকা নেই। ফলে পথচারী বা গাড়ি চালক কেউই জানেন না তাঁরা যাবেন কীভাবে। কিছু পথ আবার অনেকরই অজানা। ৩) গতি যথাযথ নয়। সেই গতি রাস্তা ধরে ধরে ঠিক করতে হবে। ৪) VIP বা VVIP গাড়ির ড্রাইভাররা ভাবছেন, তাঁদের পুলিশ ধরবে না। ফলে তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে বেরোচ্ছেন। ৫) অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ির চালক তাঁরা গতি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যেখান দিয়ে বেরোচ্ছেন, সেখানে আদৌ ওই গতিতে যাওয়া যাবে কিনা সেটা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন না। ৬)পথচারীরা কিছুতেই সচেতন হচ্ছে না। গাড়ির সামনে দিয়েই তাঁদের দৌড়ে চলে যায়। ঠিকঠাকভাবে মনোযোগও দেয় না। ৭)জাতীয় সড়ক ধরে টোটো যাচ্ছে। জাতীয় সড়ক ধরে তীব্র গতিতে যাচ্ছে মোটরবাইক। এমনকি ভ্যানও যাচ্ছে হাইওয়ে দিয়ে। এগুলো যে স্লো মুভিং ভেহিক্যালস করিডর নয় তা তাঁরা বুঝতেই চাইছেন না। ৮)জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ একাধিক জায়গায় রাস্তা চওড়া করছে। কিন্তু সেই হাইওয়ের পাশে একাধিক স্কুল থাকছে। তা নিয়ে কেউ ভাবছে না। যেমন ডানকুনি থেকে খড়গপুর এই অংশে প্রায় ৮০টি স্কুল আছে।এই বিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। ৯) গ্রামের স্টেট হাইওয়ে দারুণ হয়েছে। ফলে গাড়ি চলছে দ্রুত। আর এই রাস্তাতেই উঠে পড়ছে সাইকেল, ভ্যান। কোন নজরদারি নেই। ১০) রাতের দুর্ঘটনার কারণ হল দৃশ্যমান্যতা কম। আলো ও রিফ্লেক্টর যথাযথ প্রয়োজন।