নিজস্ব প্রতিনিধি, টোকিও: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বহুমূল্য রত্নের নাম রাসবিহারী বসু। ১৯১২ সালে ভারতে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ হাতির পিঠে চড়ে যখন নগর পরিক্রমায় বেরোন তখন তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এই ঘটনাটি ইতিহাসে দিল্লি ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। রাসবিহারী তারপর দেশত্যাগ করেছিলেন। মনে করা হয় শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের ‘সব্যসাচী’ উপন্যাসটি বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়া অনুসরণেই লিখিত। তাঁর সংসার ও শেষজীবন কেটেছিল টোকিওতে। সেখানে এক জাপানি কন্যার পাণিগ্রহণ করে হয়েছিলেন দুই সন্তানের পিতাও। প্রয়াত হনও জাপানে। তাই সেখানে রয়েছে রাসবিহারী বসুর সমাধি। শুক্রবার টোকিওতে টামা সমাধিস্থল পরিদর্শন করে বিপ্লবী বসুকে শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রতিনিধি দলের সদস্য সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে টোকিওতে প্রাক্তন বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এবং পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাসবাদের বাড়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে বিশ্বকে বার্তা দিতে মোট ৩৩টি দেশে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত সরকার। সফরের প্রথম দলটি বর্তমানে রয়েছেন জাপানে। বৃহস্পতিবার জাপান হাই কমিশনে এই বিষয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয় মূল বিষয় নিয়ে। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন বাঙালি হয়ে তাই অন্য দুই প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বকে শুক্রবার সকালে শ্রদ্ধজ্ঞাপন করলেন তিনি।
During his official visit to Japan, Shri @abhishekaitc took time from his demanding schedule to visit the Tama Cemetery in Tokyo, where he paid solemn tribute to freedom fighter, national hero, and one of Bengal’s most revered son — Shri Rash Behari Bose. pic.twitter.com/31hQCQ8bgG
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) May 23, 2025
বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর সমাধিস্থলের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। নিজের X হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘বাংলার মহান সন্তানকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে আমি গর্বিত। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর স্মৃতিস্তম্ভটি এত অবহেলিত এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে দেখে খারাপ লাগল।’ সেই সঙ্গে আবেদন রেখেছেন টোকিওতে ভারতের দূতাবাসের কাছে যাতে তাঁরা এই বিষয়টি একটু মনোযোগ সহকারে দেখেন।
টোকিওতে ভারতীয় দূতাবাসে কিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রাজীব শা-এর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের মধ্যে রাজ্যের উপকূল অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রফেসরের X হ্যান্ডল পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে দু’জনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য নেওয়া উদ্যোগ যাতে আরও শক্তিশালী হতে পারে, তার জন্য নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো নিয়ে কথা হয়েছে।