নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্তমানে রাজ্যের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির কারণে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই দুর্নীতির কারণে ২০১৬ প্যানেলের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের চাকরি বাতিল করেছে শীর্ষ আদালত। এই নিয়েই বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেছে চাকরিহারারা। আজ অর্থাৎ সোমবার দিল্লি সফরের আগে এই চাকরিহারাদের উদ্দ্যেশেই বড় বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ, আন্দোলন কখনও হিংসাত্মক হয় না।”
বিমানবন্দর থেকে অভিষেক বিকাশ ভবনে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্দোলন সম্পর্কে বলেন, “আমি কিছু ফুটেজ দেখেছি, তবে আমি কাউকে দায়ী করছি না। দেখেছি জোর জবরদস্তি গেট ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটা বলব, আন্দোলন যেন কোনও ভাবে বলপ্রয়োগ করে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে কিংবা গেট ভেঙে যেন না হয়।”
আন্দোলনের রূপ প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বাংলার শ্রমিকদের জন্য তৃণমূলের প্রতিবাদের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমরাও দিল্লিতে বাংলার শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছিল তার প্রতিবাদ আমরা রাজভবনের সামনে এসে শান্তিপূর্ণভাবে জানিয়েছিলাম। মহিলা প্রতিনিধিদের চুলের মুঠি ধরে সেই দিন দিল্লি থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। তবু আমরা অহিংসার পথ অবলম্বন করে আন্দোলন করেছিলাম।”
চাকরিহারাদের আন্দোলন নিয়ে এই দিন তিনি আরও বলেন, “আমি কোনও ভাবে তাঁদের আন্দোলন ছোট করছি না। সে ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি কোনও ভাবে চাই না এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হোক। তবে আন্দোলন যেন কখনও উগ্র হয় না।”
রাজ্য সরকারের উপর আস্থা রাখার কথা টেনে তিনি বলেন, “সরকার তো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা রিট পিটিশন ফাইল করেছি। মামলা তো এখন বিচারাধীন। বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রাখুন। আজ না হয় কাল, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিচার হবেই।”
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারত-পাক সংঘাতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে একটি প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে দল কেন্দ্রীয় সরকারের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে মদদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নিন্দা জানাই। কিন্তু দৌত্যর ক্ষেত্রে কে যাবে সেটা পার্টির সিদ্ধান্ত। এটা বিজেপি ঠিক করে দিতে পারে না। ১ জন চাইলে পাঁচ জনের নাম আমরা দেবো। কিন্তু সেটা তো দলের সিদ্ধান্ত।”
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “তৃণমূল কিন্তু এটাকে বয়কট করছে না। অনেক বিরোধী দল প্রথম থেকেই সেটার বিরোধীতা করেছে। কিন্তু তৃণমূল একেবারেই সেটা করেনি।”