নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের(North Bengal) মালদা জেলার(Malda District) সদর শহর ইংরেজবাজার(English Bazaar)। সেখানেই রয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়(Gour Banga University)। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে এক ছাত্রীকে ছুরির কোপ(Stabbed Incident) মারার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন ওই ঘটনা ঘটে। ছাত্রীকে কোপ মারার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক। দু’জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার সকালে জানা গিয়েছে, দুইজনের অবস্থা এখনও বেশ সঙ্কটজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে দু’জনেরই। সেই কারণে তাঁদের অস্ত্রোপচার সফল হলেও এখনও বিপদ কাটেনি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
জখম যুবতীর নাম তনুশ্রী চক্রবর্তী। সে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সম্প্রতি দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা দিয়েছে সে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা Science Department’র ভবনের ভিতরেই তনুশ্রীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার যখন সেই ভবনের অঙ্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস চলছিল তখনই হুট করে সেখানে ঢুকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন পড়ুয়া অলোক মণ্ডল। কার্যত ছুটে এসে তনুশ্রীর গলায় চাকু চালিয়ে দেয় সে। এখানেই শেষ নয়, মেয়েটির গলা কাটার পর নিজের গলাও কেটে ফেলে অলোক। এমনটাই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনার পর দু’জনকেই উদ্ধার করে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইজনকেই অস্ত্রপচারের পরে রাখা হয়েছে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তাঁদের স্বরনালিতে গভীর ক্ষত রয়েছে। শরীর থেকে অনেকটা রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই সঙ্কটে রয়েছেন দু’জনেই। তবে ছাত্রীর চেয়ে যুবকের অবস্থা বেশি খারাপ বলে খবর হাসপাতাল সূত্রে।
মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক গণেশচন্দ্র গাইনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল দু’জনকে দেখছে। বৃহস্পতিবারই করা হয়েছে অস্ত্রোপচার। স্বরনালিতে ক্ষত থাকায় দু’জনের কেউ কথা বলতে পারছেন না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৩৬ ঘণ্টা না কাটলে তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখনও তাঁরা বিপন্মুক্ত নন। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দু’জনের কারও বয়ান রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি এখনও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে আক্রমণ করার পর তাড়া খেয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন যুবক। সেখানে গিয়েও নিজের গলায় একাধিক কোপ মারেন। সেই কারণেই তাঁর ক্ষত তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।