নিজস্ব প্রতিনিধি, দিঘা: রাত পোহালেই রথযাত্রা। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রথম রথযাত্রায় অংশ নিতে বুধবারই পৌঁছে গিয়েছিলেন সৈকত নগরীতে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দ্বিতীয় দিনে নতুন জগন্নাথ মন্দির, পুরানো জগন্নাথ মন্দির (মাসির বাড়ি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে রথযাত্রার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। তার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে বিকেলের স্বভাবমতোই সান্ধ্য ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। সৈকতের কাছাকাছি হাঁটাহাঁটির ফাঁকেই এক জায়গায় সন্ধের চায়ে চুমুক দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর ঠিক তখনই তার সামনে হাজির হল এক হনুমান। অতিথিকে যেমন আপ্যায়ন করা হয় তেমনই প্রাণিটিকে আপ্যায়ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এগিয়ে দিলেন চায়ের কাপ, বিস্কুট। এমন আতিথেয়তা বোধ হয় আসা করেনি হনুমানটি তাই খানিকটা বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে রইল মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। শেষে অবশ্য চা-বিস্কুট সাবাড় করেই লাফ দিয়ে পরবর্তী গন্তব্যে চলে গেল ভগবান রামচন্দ্রের পরম ভক্ত।
প্রথমে কথা ছিল দিঘার প্রথম রথযাত্রায় হাজির থাকতে বৃহস্পতিবার সৈকত শহরে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে অবশ্য সেই কর্মসূচির বদল ঘটিয়ে গতকাল বুধবার সন্ধেতেই দিঘা পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আজ দুপুর দেড়টা নাগাদর জগন্নাথ মন্দির পরিদর্শনে যান তিনি। আগামিকাল শুক্রবার (২৭ জুন) রথ কোন পথে এগোবে, কী ভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ হবে, তা নিয়ে একটি বৈঠকও করেন। বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ছাড়াও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, ইসকনের রাধারমন দাসও।
ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান ‘শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পুরোহিতরা পুজোপাঠ শুরু করবেন। সাড়ে ৯টার পর জগন্নাথ মন্দির থেকে নিমকাঠের প্রভুর মূর্তি রথে তোলা হবে। আর পাথরের মূর্তি মন্দিরেই থাকবে। ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আরতি হবে। ঠিক আড়াইটায় রথযাত্রা শুরু হবে। রাস্তার উপর কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ব্যারিকেডের মধ্যে থাকবেন ভক্তরা। রথ যেতে যেতে মাঝে থামবে। কারণ, মন্দির থেকে মাসির বাড়ি দূরত্ব মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার। ব্যারিকেডের সঙ্গে রশি ছোঁয়ানো থাকবে। রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে মাসির বাড়ি পর্যন্ত রথ যাবে। উল্টো রথে আবার মাসির বাড়ি থেকে রথ মন্দিরে আসবে।’