নিজস্ব প্রতিনিধি: হাতে আর বাকি পাঁচদিন। তারপরই বাংলায় প্রথম দফার ভোট। সেখানে ঝোড়ো প্রচার করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শুক্রবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে নির্বাচনী জনসভা শুরু করেন তিনি। এখান থেকে বিজেপিকে তোপ দাগেন তিনি। বাংলা বিরোধী এখানে সভা করেছে বলেও নিশানা করেন বিজেপিকে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকেও কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে কোচবিহারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে ভোট করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিকে দেবাশিস কুমারের বাড়িতে এবং পার্টি অফিসে আয়কর হানা নিয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা নির্বাচনে হারার আগের পদক্ষেপ বলেও সোচ্চার হন তিনি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘এখন গণতন্ত্রের পথে পেরে না উঠে আমার দলের প্রার্থীর বাড়িতে ও পার্টি অফিসে রেইড করাচ্ছে। নির্লজ্জ বিজেপি দল। এমন খারাপ রাজনৈতিক দল আমি আগে কখনও দেখিনি। এত অত্যাচার করে নির্বাচন আগে কখনও দেখিনি। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে ভোট করার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। এখানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী এসে উঁকিঝুঁকি মারছে। আগে নিজের রাজ্য সামলান। ওখানে তো বাইরের লোক দিয়ে ভোট করিয়েছেন। সেটাই এখানে করতে চাইছেন? কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে। আপনাদের সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেবে জনগণ।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূলনেত্রী। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে মোদিকে জবাব দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিটিং করে বলে গেলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে কিছু হয়নি। আমি বলি আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন। বেশিদিন থাকবেন না। কিন্তু যে ক’দিন আছেন দয়া করে মিথ্যা কথা কম বলুন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর একটা ছোট্ট দফতর। এটার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ জায়গায়। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। আপনার মুখের উপর জবাব দিয়ে যাচ্ছি। একটা কথা বলার আগে বারবার করে ক্রসচেক করবেন। পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ইলেকশনের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ সহ্য করবে না।’
এছাড়া কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর বাড়িতে হানা এবং পার্টি অফিসে তল্লাশি করার বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী। তবে তিনি যে লড়াই করে যাবেন সেটাও জানিয়ে দেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘আজ কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বসে আছে। আর তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে হানা দিচ্ছে। প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে হানা দিচ্ছেন। আমার প্লেনে হানা করছে। আমার নিরাপত্তাকর্মীদের উপর হানা দিচ্ছে। নির্লজ্জ বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল। সামনা সামনি লড়াই করতে পারে না। ভীতু, কাপুরুষের দল। ওদের বিসর্জন দিন।’