নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: বাড়িতে পুরুষরা কেউ ছিলেন না। পেটের তাগিদে গিয়েছিলেন ক্ষেতে। রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন মা। ১৫ মাসের একরত্তি শিশু কখন যে খেলতে খেলতে বাড়ির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে পাশে থাকা মরণ ফাঁদের কাছে চলে গিয়েছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি। বুকের ধনকে না দেখতে পেয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হলো। শুরু হলো খোঁজাখুঁজি। অনেক খোঁজার পরে পুকুরের জলেই ভাসতে দেখা যায় ছোট্ট শিশুটির দেহ। বুধবার (১৩ অগস্ট) সকালে এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ডেবরার শ্রীরামপুরে। এক রত্তি শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুটির বাবা আজগর খাঁ কাজের সূত্রে ওড়িশায় থাকেন। বাড়ির বাকি পুরুষরা অন্যান্য দিনের মতো জমিতে চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুই শিশু সন্তান নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন আজগরের স্ত্রী। রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাড়ির সামনেই দাদার সঙ্গে খেলছিল ১৫ মাসের আজান হোসেন। কিছুক্ষণ পরে তাকে দেখতে পাওয়া না গেলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। খবর পেয়ে কাজ থেকে দ্রুত ফিরে আসেন অন্যান্যরাও। তন্নতন্ন করে খোষজ শুরু হয়। তবে অনেক খোঁজ করেও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর বাড়ির কাছের একটি পুকুরে আজানের দেহ ভেসে ওঠে।
পুলিশ আধিকারিকদের ধারনা, খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশতই শিশুটি পুকুরে পড়ে গিয়েছিল। ছোট্ট শিশুর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওড়িশায় আজগর খানের কাছেও ছোট্ট শিশুর করুণ পরিণতির খবর পাঠানো হয়েছে। সারা গ্রাম ওই ঘটনার খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।