নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের(North Bengal) মালদা জেলার(Malda District) সদর মহকুমার মানিকচক(Manikchawk) ব্লকের মধ্যে থাকা ভূতনির চর(Bhutnir Char) এলাকাটির ৩ দিকে গঙ্গা দিয়ে ঘেরা৷ অপর পাশে বইছে ফুলহার নদী৷ অথচ সেই দ্বীপেই ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে বসবাস করেন প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। প্রতি বছরই বর্ষায় ভূতনির চারপাশে গঙ্গা আর ফুলহার ফুলে ফেঁপে ওঠে৷ আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে শুধুমাত্র নৌকাই ভরসা ছিল ভূতনির বাসিন্দাদের৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সেতু তৈরি করেন ভূতনির চরের সঙ্গে মানিকচকের সরাসরি যোগাযোগের জন্য৷ কিন্তু এবারের বন্যায় সেই সেতুতে ওঠার অ্যাপ্রোচ রোড ভেসে গিয়েছে৷ যার ফলে এখন আবার সেই নৌকা করেই যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের৷ এদিন সেই নৌকা করে যাতায়াত করতে গিয়েই ঘটে গেল বড় বিপদ। গঙ্গার তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে ডুবে গেল একটি যাত্রীবোঝাই নৌকা(Boat capsized in Ganges)। আর তার জেরে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ।
আরও পড়ুন, স্বাস্থ্যসচিব সাগর দত্তে পা দিতেই ১০ দফা শর্ত ধরালেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা
স্থানীয় সূত্রে খবর, মানিকচকের মথুরাপুরে শনিবার হাট বসে। ওই হাটে যাতায়াতের পথে দুর্ঘটনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে, নৌকায় বেশি সংখ্যক মানুষ উঠে পড়ার ফলে অঘটন ঘটে থাকতে পারে। তবে সেটা তদন্তসাপেক্ষ। ইতিমধ্যে অসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তল্লাশি শুরু করেছেন। যদিও নৌকায় মোট কতজন যাত্রী ছিলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ স্থানীয় সূত্রে খবর, মহিলা এবং শিশু সমেত অন্তত ৩০ জন যাত্রী নৌকায় ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও ভেসে যান বাকিরা৷ এ দিন দুপুরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে৷ নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারেননি স্থানীয় বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রী সাবিত্রী মণ্ডলও৷ তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন ৫জন ছিল, ২জন নিখোঁজ৷ আবার শুনছি নৌকায় ৩০জন মতো যাত্রী ছিলেন৷ সঠিক সংখ্যা এখনই বলতে পারছি না৷ আজকে হাটবার থাকায় নদী পারাপারের জন্য ভিড় বেশি ছিল৷ ঘটনাস্থলে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা পৌঁছেছেন, প্রশাসন উদ্ধারকাজে সবরকম সহযোগিতা করবে৷’
আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই উদ্বোধন হবে শ্রীভূমির পুজো, সেটাও মহালয়ার আগেই
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভূতনি সেতু থেকে দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকার কাঁটাবাঁধে যাচ্ছিল যাত্রী বোঝাই নৌকাটি। তখনই গঙ্গার প্রবল জলস্রোতে ভেসে যায় নৌকাটি৷ ঘটনাচক্রে এদিন আবার সেই ভুতনি এলাকাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনিও নৌকাডুবির খবর পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মন্ত্রী। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফিরহাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘একটা নৌকা আসছিল। উল্টে গিয়েছি খবর পেলাম। আমি এলাকায় গিয়েছিলাম। খবরাখবর নিচ্ছি। দু’রকমের তথ্য পাচ্ছি। ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তলিয়ে গিয়েছেন, এখনই সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ওই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে বললাম। তার মধ্যে এই দুর্ঘটনার কথা শুনলাম।’ উল্লেখ্য, প্লাবিত ভুতনি চরের গঙ্গায় গত শুক্রবারও এক জন তলিয়ে যান। এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি। তারই মধ্যে এদিন ঘটে গেল বড় দুর্ঘটনা।