নিজস্ব প্রতিনিধি: চার বছর আগে তিনি রাজ্য বিধানসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিল। গত বছর লোকসভা ভোটের ফলাফল নিয়েও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছিল। সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার (২৫ জুন) আগামী বছর বাংলার বিধানসভা ভোটে বিজেপি কত আসন পাবে তা নিয়ে ফের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ডায়মন্ডহারবারে নিজের সংসদীয় কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ্ম শিবিরকে খানিকটা কটাক্ষ করে বলেন, ‘ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি নাকি বাংলার ক্ষমতা দখল করবে বলছে! গতবারে ওরা ৭৭টা আসন পেয়েছিল, এবারে ওরা ৫০ এর নীচে আটকে যাবে। আজকের সভা থেকে আমি এই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেলাম। আমি সচরাচর কোনও বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করি না। আর করলে ইশ্বরের কৃপায় আমার ভবিষ্যদ্বাভি অল্প হলেও মিলে যায়।’ স্বভাবতই অভিষেকের এদিনের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কোথা থেকে তিনি এমন আত্মবিশ্বাস পেলেন তাও এদিনের সভায় খোলসা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায় , ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই ভবিষ্যদ্বাণী করছি, কারণ মানুষের প্রতি, দলের কর্মীদের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস, আস্থা আছে। বছরভর যদি মানুষের পাশে কেউ থাকে, তাহলে তারা তৃণমূলের কর্মীরাই।’
আগামী বছর বাংলায় ক্ষমতার পাশা বদলাবে বলে গত কয়েক মাস ধরেই হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু বিজেপি নেতাদের ওই স্বপ্ন গত বারের মতো এবারও অধরা থেকে যাবে বলে দাবি করে অভিষেক বলেন, ‘অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানেও বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি অপারেশন সিঁদুরের নামে এমএলএ কেনাবেচা করতে চায়। তবে এটা বাংলা। এখানে বিজেপির ওই অপচেষ্টা সফল হবে না।’
বাংলায় ভোটের আগে বিজেপি ও গেরুয়া শিবির পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরির পাঁয়তারা কষছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলায় ধর্মে-ধর্মে অশান্তি লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। ডায়মন্ডহারবারেরই মহেশতলায় কয়েকদিন আগে একটা ঘটনা ঘটেছে। খুব তো চেয়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের একটা ঘটনা নিয়ে লাশের রাজনীতি করতে, মহেশতলায় মহিলারা তাড়া করতেই ওরা বাধ্য হয়েছে ল্যাজ গুটিয়ে পালাতে।’
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ‘দলবদলু’ শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি অভিষেক। বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি যেভাবে ক্রমাগত আমার নেত্রীকে নিয়ে কুকথা বলেন, তাতে বলতে বাধ্য হচ্ছি, “তুমি দাদা থেকে কাকা, কাকা থেকে জেঠু, জেঠু থেকে দাদু হয়ে যাবে, তৃণমূলকে মানুষের হৃদয় থেকে আগামী ৫০ বছর সরাতে পারবে না, দম থাকলে আমার চ্যালেঞ্জ ভেঙে দেখাও।’