নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের(North Bengal) জলপাইগুড়ি জেলার(Jalpaiguri District) ময়নাগুড়িতে(Moynaguri) এক কংগ্রেস কর্মীকে গাছে বেঁধে মারধর করে খুনের(Corgress Worker Murder Case) ঘটনায় পুলিশ ৫জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার(5 TMC Worker Arrested) করেছে। মৃত কংগ্রেস কর্মীর নাম মানিক রায়। তিনি ময়নাগুড়ি কলোনির বাসিন্দা। বুধবার রাতে মানিককে এলাকার বেশ কয়েকজন তুলে নিয়ে যান। বাবাকে কেউ নিয়ে যাচ্ছে দেখে, পিছু নেয় মানিকের নাবালক ছেলে। সেই দেখে তার বাবাকে গাছে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। তারপর সেখান থেকে নদী পেরিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট দৌড়ে থানায় যায় সেই স্কুল ছাত্র। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মানিককে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকেই ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি গ্রেফতার হওয়া ৫জনই এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, রাজনৈতিক বিবাদের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেনি। পুরনো বিবাদের জেরে ওই কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে নারী নির্যাতনের মামলা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। সে সময়ে মানিকের বাড়িও ভাঙচুর হয়। তখন চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে ৫ বছর ঘরছাড়া ছিলেন মানিক। ওই ৫টা বছর শিলিগুড়িতে ছিলেন তিনি। সে সময় থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। আলাপ আলোচনায় সমঝোতায় এসে সপ্তাহ খানেক আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর থেকে মানিককে আবারও শাসানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তারই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে যায় বুধবার রাতে। অভিযোগ, ৩২ জন মিলে ওই কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে ঢোকে। তারপর তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে পিটিয়ে মারা হয়।
মানিকের স্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, ‘তৃণমূলের লোকেরা ওর নামে নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। ৫ বছর আমরা বাড়ি থেকে শিলিগুড়িতে ছিলাম। রবিবার বাড়িতে ফিরে আসি। এরপর বাপ্পা রায়, অমল দাস ওরা আবার এল আমাদের বাড়িতে। ওরা এসে বলে তোকে আজ ডিজেল দিয়ে পোড়াব, গাছে বেঁধে মারে। অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপাল।’ যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘এটা একেবারেই পাড়াগত গ্রাম্য বিবাদ। তবে যারাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ করবে। ইতিমধ্যেই ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই বলেছেন, কোনও ভাবে গুন্ডারাজ বরদাস্ত করা হবে না। যারা করেছে, তাদের জায়গা জেলের পিছনেই থাকবে।’