নিজস্ব প্রতিনিধি, টিটাগড় : টিটাগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার কাউন্সিলর আরমান মন্ডল-সহ ৩ জনকে ১০ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারাকপুর মহকুমা আদালত। শনিবার আদালতে ধৃত ৩জনকে তোলা হলে বিচারক রাহুল ভট্টাচার্য তাদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ জুন ফের ধৃতদের আদালতে পেশ করার কথা বলা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ধৃত আরমান মন্ডল জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ আইনে অতিরিক্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, টিটাগড়ের যে আবাসনে বিস্ফোরণটি ঘটে সেটি টিটাগড় কাউন্সিলরের ফ্ল্যাট। এই ঘটনাটি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় টিটাগড় থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, আবাসনে মজুত রাখা ছিল বোমা। আর সেখান থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল। তবে এই বিষয় এখনও কোনও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহের শুরুতে খুব বিকট একটি আওয়াজ হয়। সেই বিস্ফোরণের শব্দেই প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। ভয়ঙ্কর আতঙ্কে এলাকার বাসিন্দারা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাইরে বেরিয়েই তাঁরা দেখেন চারিদিক ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। বাসিন্দারা দাবি করেন, বিস্ফোরণের কারণে পুরো আবাসন জুড়ে বারুদের গন্ধে ভরে যায়।
জানা গিয়েছে, ওই আবাসনের বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশেপাশের তিন-চারটি ঘর একসঙ্গে ভেঙে পড়ে। তার পাশাপাশি চিলেকোঠার একদিকের দেওয়াল উড়ে গিয়ে পড়েছে পাশের বস্তিতে। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু যেখানে এলাকার কাউন্সিলর বাস করেন সেখানে বোমা কে রেখেছে? এই নিয়ে খতিয়ে দেখছে টিটাগড় থানার পুলিশ। যেই ঘরে বোমা রাখা ছিল তার তালা সব সময় খোলাই থাকত বলে জানা যায়। তাই সেখানে কে যাওয়া আসা করছে তার সঠিক কোনও প্রমাণ নেই পুলিশের কাছে।