নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল : বিচারক জামিন দিয়েছেন। নিয়মের খাতায় জামিনমুক্ত হয়েও মাসের পর মাস ধরে কারাগারেই দিন কাটছে ৩ বন্দির। আসানসোল সংশোধনাগারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনের গেরোয় মিলছে না মুক্তি। এরফলে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ৩ পরিবার।
জানা গিয়েছে, ওই ৩ বন্দির কোনও বৈধ পরিচয়পত্র না থাকায় কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। তাঁদের বৈধ পরিচয়পত্র বানানো হয়নি। আইনের নিয়মে পরিচয়পত্র ছাড়া মুক্তি মেলে না। তাই পরিবারের লোকজন নিয়ম করে জেলে এসে দেখা করে যান। এই বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই ৩ আসামির পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
আসানসোল সংশোধনাগারের পূনর্মিলন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। চোখে জল নিয়েই কারাগারের বাইরে বসেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধা শম্পা ভট্টাচার্য। ছেলেকে একবার চোখের দেখা দেখতে আসেন তিনি। লোহার গারদের ওপারে ছেলেকে একবার দেখে কিছুটা হলেও শান্তি পান। তিনি জানিয়েছেন, অসৎ সঙ্গে পড়ে মাদক সেবন শুরু করেছিল ছেলে। নেশার চোটে টাকা জোগাড়ের জন্য রেলের সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। এরপরেই জিআরপি-র হাতে ধরা পড়েন। তারপর থেকেই আসানসোল সংশোধনাগারে বন্দি।
মামলায় ছেলের জামিন হয়ে গেলেও কারাগার থেকে মুক্তি হচ্ছে না। সংশোধনাগারের এক আধিকারিক তাঁকে স্থানীয় কাউন্সিলারকে বিষয়টি জানাতে বলেছেন। প্রথমে রেসিডেন্সিয়াল শংসাপত্র তৈরি করতে বলেছেন। একই অবস্থায় রয়েছে আরও দু’টি পরিবারে। ২-৩ মাস আগে জামিন হয়ে গেলেও মিলছে না মুক্তি। আইনের কারণেই আটকে রয়েছেন কারাগারে
আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট চান্দ্রেয়ী হাইত জানিয়েছেন, তিনজন বন্দির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকায় জামিন হয়ে যাওয়ার পরেও মুক্তি মেলেনি।