নিজস্ব প্রতিনিধি: আর কয়েক ঘন্টা বাকি প্যারিস অলিম্পিক্সের (Paris Olympics 2024) সূচনা পর্ব! তার আগেই একের পর এক বিতর্কের মুখে ঐতিহাসিক এই ক্রীড়া টুর্নামেন্ট। এমনিতে সন্ত্রাসী হামলা এড়াতে গোটা প্যারিস মুড়ে ফেলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তায়। কিন্তু তাও রেহাই মিলছে না, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের উচ্চ-গতির রেলওয়ে স্টেশনগুলি সন্ত্রাস হানায় জেরবার। ট্রেনগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে কর্তৃপক্ষরা একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে শুক্রবার এবং ট্রেনগুলির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্যারিস অলিম্পিক্স শুরুর মুখেই এমন সন্ত্রাস হামলায় রীতিমতো প্রশ্ন উঠছে প্রতিযোগীদের নিরাপত্তার। এছাড়াও শহর জুড়ে নানারকম দুর্ঘটনার খবরও প্রকাশ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার জন্যে ফ্রান্সের ফ্রাঙ্কো বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী একজন প্রতিযোগীকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
কারণ এবারের আসরে এমন একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি কি না শিশু ধর্ষণের দায়ে জেলখাটা আসামি। তাঁর নাম স্টিভেন ফন দে ভেলদে। জানা গিয়েছে, অলিম্পিক্সে নেদারল্যান্ডসের হয়ে বিচ ভলিবলে অংশ নেবেন তিনি। আগামী ২৮ জুলাই ইতালির আলেক্স রানিয়েরি ও আদ্রিয়ান কারাম্বুলার বিপক্ষে অলিম্পিক্সে প্রথম ম্যাচ খেলবেন তিনি। তবে এখন ফন দে ভেলদেকে অলিম্পিক্স ভিলেজের বাইরেই রাখা হয়েছে, বিতর্ক এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডাচ অলিম্পিক্স কমিটি। এমনকী গেম চলাকালীন তিনি কোনও সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না বলেই জানিয়েছেন অলিম্পিক্স কর্তৃপক্ষ।
তাঁর অপরাধের বিষয়ে ডাচ অলিম্পিক্স কমিটি জানিয়েছে, ‘ধর্ষণের মামলার ব্যাপারে ফন দে ভেলদে ধারাবাহিকভাবে স্বচ্ছতা দেখিয়েছেন, এবং তিনি জানিয়েছেন, এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আর এই কারণে তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত।’ উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে ১২ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ শিশুকে ধর্ষণ করেছিলেন ফন দে ভেলদে। তখন তিনি ১৯ বছর বয়সী ছিলেন। ফেসবুকে ওই মেয়েটির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ভেলদের। বেশ কয়েকমাস অনলাইনে কথা বলার পর সামনাসামনি দেখা করার জন্য তিনি ব্রিটেনে যান। এরপর হোটেলের সিঁড়ির নিচে তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটিকে সে গর্ভনিরোধক ওষুধ খেতে বলেন। এরপরেই মেয়েটির পরিবার পুলিশকে খবর দেন।
এই অপরাধে ৪ বছর জেল খাটার সাজা দেওয়া হয় ভেলদের বিরুদ্ধে। অবশ্য তিনি অন্যায় স্বীকার করে নেওয়ার জন্যই তাঁর শাস্তি কমে যায়। ব্রিটেনে এক বছর জেল কাটার পর নেদারল্যান্ডসে এক মাস জেল খেটে তাঁর মুক্তি হয় ২০১৭ সালে। এরপর আবার খেলা শুরু করেন। এখন তিনি বিবাহিত, দুটি সন্তানের বাবা। এবার তিনি অলিম্পিক্সে যোগ দেবেন। তবে তাঁর অলিম্পিক্সে যোগদান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক্স দলের প্রধান অ্যানা মিয়ারস জানিয়েছেন, ‘যদি কোনো অ্যাথলেট কিংবা স্টাফ দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকে তাহলে সে দলের সদস্য হতে পারবেন না। দলের সুরক্ষায় আমাদের কঠোর নীতি রয়েছে।’