নিজস্ব প্রতিনিধি: ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস প্রতিযোগিতায় বেনজির লজ্জার রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলার জন হ্যাস্টিংস। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে পাঁচ বল করতে গিয়ে ১২টি ওয়াইড ও একটি নো বল করেছেন। আর তা করতে গিয়ে নিজের ওভারই শেষ করতে পারেননি। কেননা, ওই ওয়াইড ও নো বলের সৌজন্যে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাঈদ আজমলরা। কার্যত অস্ট্রেলিয়াকে চরম লজ্জার মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রথমে ব্যাট করে ৭৪ রানে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য ৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যখন পাকিস্তানের রান ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৫, ঠিক তখনই ‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড় হ্যাস্টিংসকে বল করতে ডাকেন অজি অধিনায়ক ব্রেট লি। তিনি ভেবেছিলেন আস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে ৩৯ ম্যাচ খেলা হ্যাস্টিংস ভেল্কি দেখাবেন। কিন্তু হ্যাস্টিংসের হাতে বল দিয়ে যে চরম লজ্জায় পড়তে হবে ঘুণাক্ষরেও তার আঁচ পাননি লি।
বল করতে এসে টানা পাঁচটি বল ওয়াইড করেন হ্যাস্টিংস। প্রথম বৈধ বলে সিঙ্গেল নেন পাকিস্তানি ওপেনার। এর পরের বলে চার হাঁকান। এরপর এক নো বল, যেটি ছিল আবার ওয়াইড। ওভারের শেষ দিকে তিনি দুই দিক থেকে বল করে (ওভার ও রাউন্ড দ্য উইকেট) বারবার লাইন মিস করেন। শেষ পাঁচটি বল ছিল টানা ওয়াইড। পাকিস্তানি ওপেনার শোয়েব মাকসুদ প্রতিবার বড় শট খেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হ্যাস্টিংসের বল দেখে হতাশ হন তিনি। অন্য ওপেনার শারজিল খানকে মুচকি হাসতে দেখা যায়। সবচেয়ে বোধহয় বেশি যন্ত্রণা ভোগ করেছেন আম্পায়ার। ১২ বার দুই হাত প্রসারিত করে ওয়াইড কল করতে হলো তাঁকে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ব্রেট লিও লজ্জায় হাতে মুখ ঢেকেছিলেন। বহুল আলোচিত এই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সাঈদ আজমল। তিনি ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। ১০ উইকেটে হারের পরও সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার, যে দলের নেতৃত্বে আছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।