নিজস্ব প্রতিনিধি: কোচ বদলেও ভাগ্য বদল হল না ইস্টবেঙ্গলের। মঙ্গলবার আইএসএলে ওড়িশা এফসি’র কাছেও হেরে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। খেলার ফল ২-১। ওড়িশার হয়ে গোল করেছেন রয় কৃষ্ণা ও মৌরতাদা ফাল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন দিমিত্রোস ডায়ামান্টাকোস। তাও ওই গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে। এই নিয়ে চলতি আইএসএলে টানা ৬ ম্যাচে হারের লজ্জা গড়ল এক সময়ে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম দাপুটে ক্লাবটি।
আগের শনিবার যুবভারতীতে কলকাতা ডার্বিতে চির শত্রু মোহনবাগানের কাছে ২-০ গোলে হার হজম করতে হয়েছিল লাল-হলুদকে। সেই হারের ধাক্কা যে কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্রেসপো-পিভি বিষ্ণুরা, তা এদিন শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকেন তাঁরা। ঘররের মাঠে দর্শকদের সমর্থন পেয়ে বাড়তি উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপান ওড়িশা এফসি’র রয় কৃষ্ণারা। তবে ৬ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুরন্ত শট নিয়েছিলেন দিমিত্রোস। তবে তা প্রতিহত করেন ওড়িশার গোলরক্ষক অমরিন্দর। ২২ মিনিটের মাথায় প্রভসুখন গিলকে ফাঁকি দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের জালে বল জড়িয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা।
গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরেই খানিকটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন জিকসনররা। বেশ কয়েকবার আক্রমণ তুলে এনে ওড়িশার রক্ষণে হানা দেন। ৪২ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে পাওয়া বলে হেড নিয়েছিলেন জিকসন। যদিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। অবশেষে প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে কাঙ্খিত গোল পায় লাল-হলুদ। বক্সে ঢুকে চকিতে শট নিয়েছিলেন তালাল। সেই শট প্রতিহত করতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে ফেলেন ওড়িশার থাউবা। পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি রেফারি। ওই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেররান দিমিত্রোস।
প্রথমার্ধে অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপান ওড়িশার ফুটবলাররা। ৬৯ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে উড়ে আসা বলে দুরন্ত হেডে ইস্টবেঙ্গলের জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ওড়িশার মৌরতাদা ফাল। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না প্রভসুখন গিলের। ৭৬ মিনিটে জাউয়াকে বিশ্রিভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে হয় লাল-হলুদের প্রভাত লাকড়াকে। ফলে ১০ জনের দল হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। শেষের ২১ মিনিট (সংযুক্তি সময় ধরে) গোল শোধের চেষ্টা করেও সফল হননি ক্রেসপোরা।