নিজস্ব প্রতিনিধি, আমদাবাদ: শ্রেয়স আইয়ারের হাত ধরে ১১ বছর বাদে আইপিএলের প্লে-অফে ঠাঁই পেয়েছিল পঞ্জাব কিংস। রবিবার (১ জুন) রাতে তাঁর হাত ধরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে উড়িয়ে আইপিএলের ফাইনালে পৌঁছল প্রীতি জিন্টার দল। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সূর্যকুমার যাদব-তিলক ভার্মা ও নমন ধীরের ঝোড়ো ইনিংসের দৌলতে ছয় উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তুলেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। জবাবে শ্রেয়সের অপরাজিত ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের দৌলতে এক ওভার বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গেল পঞ্জাব।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ দেরিতে শুরু হয়। টসে জিতে মুম্বইকে ব্যাট করতে পাঠান পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। এলিমিনেটরে গুজরাতের বিরুদ্ধে অসাধারণ ইনিংস খেলা রোহিত শর্মা এদিন ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার আগেই মার্কাস স্টোইনিসের বলে আউট হন। তিনি করেন ৭ বলে ৮ রান। দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে সেই ধাক্কা সামাল দেন জনি বেয়ারস্টো ও তিলক ভার্মা। পঞ্জাবের বোলারদের আক্রমণকে নির্বিষ করে দুজনে যোগ করেন ৫১ রান। সপ্তম ওভারে বেয়ারস্টোকে (৩৮) ফেরান বিজয় কুমার। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দলকে শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করিয়ে দেন তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব। ১৪তম ওভারে সূর্যকে (৪৪) ফেরান যুজবেন্দ্র চহাল। পরের ওভারে সেট হওয়া তিলককে (৪৪) সাজঘরে ফেরান কাইল জেমিসন। দুই বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
এর পর অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য ও নমন ধীর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। যদিও রান ওঠার গতি খানিক শ্লথ হয়ে যায়। ১৮তম ওভারে হার্দিককে (১৫) ফিরিয়ে মুম্বইয়ের রানের পাহাড় গড়ার স্বপ্নে জোর ধাক্কা দেন আজমাতুল্লাহ ওমরজাই। শেষের দিকে রাজ অঙ্গদ বাওয়াকে নিয়ে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করানোর চেষ্টা চালান নমন ধীর। যদিও সফল হননি তিনি। শেষ ওভারে বল করতে এসে নমনের তাণ্ডব থামান ওমরজাই। ১৭ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফিরে যান নমন। শেষ পর্যন্ত ২০৩ রানে থেমে যায় মুম্বই। বাওয়া ৮ এবং মিচেল স্যান্টনার শূন্য রানে অপরাজিত থেকে যান।
ফাইনালে ওঠার জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি পঞ্জাবের। ট্রেন্ট বোল্টের বলে তৃতীয় ওভারে সাজঘরে ফেরেন প্রভসিমরান সিংহ (৬)। এর পর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান প্রিয়াংশ আর্য ও জস ইংলিস। দুজনে দেখেশুনেই খেলছিলেন। পঞ্চম ওভারে যশপ্রীত বুমরাহের বলে দুটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়ে ২০ রান তোলার পাশাপাশি দলকে ৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন জস ইংলিস। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারের প্রথম বলে প্রিয়াংশকে (২০) ফিরিয়ে পঞ্জাবকে জোর ধাক্কা দেন অশ্বনী কুমার। প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বড় রানের ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে দুই উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান তোলে পঞ্জাব। অষ্টম ওভারে বিধ্বংসী ইংলিসকে (৩৮) ফিরিয়ে মুম্বই সমর্থকদর খানিকটা স্বস্তি দেন হার্দিক পাণ্ড্য। এর পর শ্রেয়স আইয়ার ও নেহহাল ওয়াধেরা চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। ২৮ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করিয়ে দেন। দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন।
১৬তম ওভারে বল করতে এসে নেহাল ওয়াধেরাকে (২৮ বলে ৪৮) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অশ্বনী কুমার। যদিও অপ্রতিরোধ্য ছিলেন শ্রেয়স। ১৭তম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৭ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন পঞ্জাব অধিনায়ক। চতুর্থ বলে অকারণে রান নিতে গিয়ে হার্দিকের থ্রোয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শশাঙ্ক সিংহ (২)। যদিও তাতে কোনও লাভ হয়নি মুম্বইয়ের। উল্টে একা কুম্ভ হয়ে মুম্বইয়ের বোলারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করে দেন শ্রেয়স। অন্য প্রান্তে থাকা মার্কাস স্টোইনিসকে কিছু করার সুযোগই দেননি। শেষে ১৯ ওভারেই দলকে জয় এনে দেন পঞ্জাব অধিনায়ক। তাঁর ৪১ বলে ৮৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল পাঁচটি চার ও আটটি বিশাল ছক্কায়। ২ বলে ২ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্কাস স্টোইনিস। মুম্বইয়ের সফল বোলার অশ্বনী কুমার চার ওভারে ৫৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন।