হংকংয়ের কাছে হারার পরেই কোচ মানোলো মার্কোয়েজের পদত্যাগের দাবি জোরালো

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় ফুটবলের অধঃপতন হয়েই চলেছে। হতাশ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা। টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান কোচ মানোলো মার্কোয়েজের বিরুদ্ধে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। দেশজুড়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। ইগর স্টিমাচের পর মানোলো মার্কোয়েজের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে এখন অনেকেই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভুল’ বলে মনে করছেন।

মানোলোর ঝুলি শূন্য

মানোলো মার্কোয়েজ যখন ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এ এফসি গোয়ার কোচ ছিলেন, তখন তাঁর কোচিংয়ে দলটি বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছিল। এই সাফল্য দেখেই AIFF তাঁকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় দলের হাল ধরার পর থেকে তাঁর কোচিংয়ে কোনও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। ২০২৪ সালে টিম ইন্ডিয়া একটিও ম্যাচে জয় পায়নি। ২০২৫ সালের শুরুতেও দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। বাংলাদেশের সঙ্গে গোলহীন ড্র, থাইল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনক হার এবং সবশেষে হংকং ম্যাচে লজ্জার হার—এই ফলাফলগুলো ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থার করুণ ছবিটা তুলে ধরেছে।

হংকং ম্যাচের আগে শোনা যাচ্ছিল যে, এই ম্যাচের পর মানোলো পদত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু হারের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি পদত্যাগের কোনও ইঙ্গিত দেননি। এই ঘটনায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—তবে কি মানোলোর কোচিংয়েই ভরসা রাখতে চায় AIFF?

পদত্যাগের জল্পনা

সূত্রের খবর, মানোলো মার্কোয়েজ খুব শিগগিরই জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়তে চলেছেন। ১১ জুন, ২০২৫-এর বিকেলে তিনি তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু কেন এত দেরি? জানা গিয়েছে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন কর্তারা এবার কোনও তাড়াহুড়ো না করে সাবধানে পদক্ষেপ নিতে চাইএন। ইগর স্টিমাচের পদত্যাগের সময় ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক অভিযোগ জলঘোলা করেছিল। ইগর দাবি করেছিলেন, AIFF সভাপতি কল্যাণ চৌবের ভুল নীতির কারণেই ভারতীয় ফুটবলের এই দুর্দশা। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে AIFF এবার সতর্ক।

আজ বুধবার (১১ জুন) মানোলোর সঙ্গে AIFF কর্তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠকের মূল বিষয় হবে—পদত্যাগের পর মানোলো যেন ভারতীয় ফুটবলের দুর্দশা নিয়ে কোনও সমালোচনা না করেন। এই বিষয়ে একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই মানোলোকে রিলিজ লেটার দেওয়া হবে।

কেন ব্যর্থ হলেন মানোলো?

মানোলো মার্কোয়েজের ব্যর্থতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, AIFF থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব। মার্চ ২০২৫-এ বাংলাদেশ ম্যাচের আগে মানোলো দলের প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধার জন্য যে দাবি জানিয়েছিলেন, তা পূরণ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, জাতীয় দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের অভাব। AIFF কর্তারা সুনীল ছেত্রীকে অবসর ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সুনীল ফিরলেও তিনি ও মানোলো দুজনেই বুঝতে পেরেছিলেন, এই দল দিয়ে বড় কিছু করা সম্ভব নয়।

এছাড়া, মানোলো একই সঙ্গে এফসি গোয়া ও টিম ইন্ডিয়ার কোচিং করছিলেন। ২০২৫ কলিঙ্গ সুপার কাপ জয়ের পর এফসি গোয়ার সঙ্গে তাঁর চুক্তি রিনিউ-এর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে এফসি গোয়ার সঙ্গে থেকে যাওয়াই তাঁর কাছে বেশি আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।

সমর্থকদের ক্ষোভ

টিম ইন্ডিয়ার এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মানোলোর সমালোচনা করে বলেছেন, ISL কোচরা জাতীয় দলের জন্য উপযুক্ত নন। একজন সমর্থক লিখেছেন, “আমরা ভেবেছিলাম মানোলোর অধীনে ভারতীয় ফুটবল নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। কিন্তু ২০২৪ সালে একটিও জয় না পাওয়া আর ২০২৫-এর এই দুর্বিষহ শুরু আমাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।” মানোলো পদত্যাগ করলে AIFF নতুন কোচ খুঁজতে বাধ্য হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফেডারেশন বর্তমানে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। নতুন কমিটি গঠনের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ততদিনের জন্য হয়তো অস্থায়ী কোচ নিয়োগ করা হবে। নৌসাদ মুসা, যিনি বর্তমানে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

৯ বছরে সর্বনিম্ন! ক্রমতালিকায় ১৩৩ নম্বরে ভারতীয় ফুটবল, ফিফাকেই দায়ী করলেন কল্যাণ

পাওনা আদায় করতে ফিফার দ্বারস্থ ভারতের প্রাক্তন কোচ

জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ নিয়ে অশান্তি, AIFF থেকে ইস্তফা বাইচুংয়ের

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]