নিজস্ব প্রতিনিধি: দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামেই দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজ পকেটে পুরেছিলেন সূর্যকুমার যাদবরা। শনিবার ছিল নিয়মরক্ষার ম্যাচ। আর সেই নিয়ম রক্ষার ম্যাচেই কার্যত বাংলাদেশি বোলারদের বিরুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালালালেন সঞ্জু স্যামসন। ইনিংসের দশম ওভারে রিশাদ হোসেনের শেষ পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা হাঁকালেন তিনি। শুধু তাই নয়, মাত্র ৪০ বলেই টি টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতরান তুলে নিলেন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার। আর সঞ্জুর বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদেই তৃতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান তুলেছে টিম ইন্ডিয়া।
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধি স্টেডিয়ামে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই কার্যত ঝড় তোলেন সঞ্জু স্যামসন। তৃতীয় ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। কিন্তু তাতে সঞ্জুর ব্যাটিং টর্নেডো রোখা যায়নি। অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদবের সঙ্গে জুটি বেঁধে তাসকিন আমেদ-তনজিম হাসানদের তুলোধনা করেন। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮২ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। আর ১০ ওভারে সেই রান দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৫২। দশম ওভারে রিশাদ হাসানের ওভারের শেষ পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা হাঁকান সঞ্জু। দুটি সোজাসুজি বোলারের মাথার ওপর দিয়ে, একটি করে লং অফ ও লং অন দিয়ে। টানা চার ছক্কার পর শেষ বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে গিয়েছিলেন রিশাদ। কিন্তু লাভ হয়নি। বল সীমারেখা পার করেছে মিড উইকেট দিয়ে। এর আগে ৩৩টি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন সঞ্জু। কিন্তু শতরানের দেখা পাননি। অর্ধশতরান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এদিন বাংলাদেশি বোলারদের পিটিয়ে ছাতু করে মাত্র ৪০ বলে ৯টি চার আর ৮ ছক্কায় জীবনের প্রথম শতরান তুলে নিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত ১৪ তম ওভারে টর্নেডো হয়ে হাজির হওয়া সঞ্জুকে (১১৭) ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। সঞ্জু সাজঘরে ফেরার পরেই মোস্তাফিজুরের বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন ভারত অধিনায়ক সূর্য যাদব। কিন্তু পরের ওভারেই মাহমুদুল্লাহের বলে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। আউটের আগে খেলেন ৩৫ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। সূর্য আউট হওয়ার পরে ভারতের ইনিংসকে রানের পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান রিয়ান পরাগ ও হার্দিক পাণ্ড্য। দুজনেই ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ স্টাইলে ব্যাট করতে থাকেন। ১৩ বলে ৩৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রিয়ান। শেষ ওভারে তানজিম সাকিব বল করতে এসে ভারতকে জোড়া ধাক্কা দেন। তৃতীয় বলে ফেরান হার্দিককে (১৮ বলে ৪৭)। পরের বলে নীতীশ রেডডিকে (০)। ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া।