পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রায় সমস্ত হিন্দু ঘরেই প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। জানা যায়, মা লক্ষ্মী সৌভাগ্যদায়িনী। তিনি সন্তুষ্ট থাকলে সংসারেও সুখ-শান্তি বজায় থাকে। তিনি একাধারে জগতের প্রতিপালিকা এবং ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী। তবে কী এমন কারণের প্রেক্ষিতে এই বৃহস্পতিবারেই মা লক্ষ্মীর পুজো করা হয় ?
পৌরাণিক কাহিনী থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে দেবী লক্ষ্মীর হাতের প্রহরণ শুভশক্তির প্রতীক যা, অশুভশক্তিকে বিনাশ করে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, মন দিয়ে লক্ষ্মীর প্রার্থনা করলে মহাশক্তি স্বরূপিনী সকলের সব রকম কল্যাণ ও মঙ্গল বিধান করেন। অপর দিকে বৃহস্পতিবার হল লক্ষ্মীর দিন আর এই বৃহস্পতি হল দেবগুরু । তাই বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর আরাধনা করলে সকল দুঃখ দূর হয়। আর্থিক সমস্যারও সমাধান হয়। যদি কোনও বৃহস্পতিবার পূর্ণিমা তিথি পড়ে, তবে সেই দিন কোনও নারী উপবাসে থেকে লক্ষ্মীদেবীর পুজো করলে গৃহ ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ হয় এবং সকল সমস্যার সমাধান হয়। বলে রাখা ভালো, উপবাস করার অর্থ হল সশরীরে দেবীর সম্মুখে বসবাস।
মনে করা হয় বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীদেবী জাগ্রত থাকেন। সে দিন তাঁর পুজো, স্তব ও দ্বাদশ নাম পাঠ করলে তাঁর আশীর্বাদ পাওয়া যায়। জানা যায়, মহালক্ষ্মীর পুজোপাঠে ধন, মান, যশের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সুস্থতাও আসে। বলা হয়, সমস্ত দেবতা বাস করেন তুলসী গাছে। আবার অন্য একটি মতানুযায়ী, দেবী তুলসী হলেন মা লক্ষ্মীরই এক রূপ। তাই বাড়িতে তুলসী গাছ থাকলে এবং সেখানে প্রতিদিন প্রদীপ জ্বাললে তুষ্ট হন দেবী লক্ষ্মী। এই দিনে দেবীর শ্রীযন্ত্রম পুজো করলেও সুখ-শান্তি-যশ লাভ করা যায়। এই মহালক্ষ্মীর শ্রীযন্ত্রম নিত্য দর্শন করলেও লক্ষ্মী প্রাপ্তি ঘটে। বৃহস্পতিবারে দেবী লক্ষ্মীর পুজোর শেষে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করারও প্রচলন আছে। মনে করা হয় লক্ষ্মী পাঁচালী পাঠ ছাড়া লক্ষ্মীপুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বৃহস্পতিবারে এই পাঁচালী পাঠের ফলে নিজের ভক্তদের ওপর প্রসন্ন হন ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী।
আরও পড়ুনঃ প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর এই পাঁচালী পাঠ করলে সংসারে থাকবেনা কোনো অভাব-অনটন
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবার হল লক্ষ্মী আরাধনার দিন। মনে করা হয়, প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুজোর সময় শুদ্ধ বসনে ও শুদ্ধ চিত্তে তাঁর আরাধনা করলে অর্থ- মান লাভ হতে পারে, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ও উন্নতিসাধন হয়। মনমতো চাকরি লাভ হয়, সুখ-সমৃদ্ধি লাভ হয়, শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বৃহস্পতিবারকে প্রধানত দেবী লক্ষ্মীর বার হিসেবেই মান্য করা হয়। বৃহস্পতির উন্নতির জন্য হলুদ পোখরাজ, হলুদ সুতো হাতে ধারণ করা হয়। অনেকেই আবার সারা বছর প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পুজো করে থাকেন ৷ এছাড়া দেবী লক্ষ্মী শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি, চৈত্র সংক্রান্তি, আশ্বিনী পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মী দেবীর পুজো করা হয়ে থাকে ৷