নিজস্ব প্রতিনিধি : দেবী লক্ষ্মী হলেন সম্পদ, ভাগ্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী। তিনিই হলেন জগতের প্রতিপালক বিষ্ণুপ্রিয়া। তিনিই আবার অন্ধকার থেকে আলোর উৎস। নারায়নী নামেও পরিচিত তিনি। যাবতীয় সুখ ও সম্পদের দেবী তিনি। তাঁকে পাওয়া যেমন সহজ নয়, তেমনই দেবীকে ধরে রাখা মুশকিল। কেননা যেখানে ভালবাসা থাকে না সেই গৃহ ত্যাগ করেন তিনি। এমনকি উপার্জনের ক্ষেত্রে কেউ অসততার পথ অলবম্বন করলে দেবীর রোষের মুখে পড়তে হয় ব্যক্তিকে। আপনি কী জানেন কোন ভোগে তুষ্ট হন মহালক্ষ্মী ? তবে জেনে নিন লক্ষ্মী পুজোয় কোন ভোগ নিবেদন করবেন দেবীকে।
নারকেল : হিন্দু ধর্মে নারকেল হল পবিত্র ফল। এটি শ্রীফল নামেও পরিচিত। নারকেল হল দেবী লক্ষ্মীর প্রিয় ফল। তাই লক্ষ্মী পুজোর ভোগে নারকেল রাখতে ভুলবেন না যেন। লক্ষ্মীকে প্রসাদ হিসেবে নারকেলের লাড্ডু, কাঁচা নারকেল ও জল ভর্তি নারকেল নিবেদন করতে পারেন। এতে লক্ষ্মী প্রসন্ন হয়ে থাকেন। এছাড়াও নারকেলের পায়েসও নিবেদন করতে পারেন।
পানিফল : পানিফল হল দেবী লক্ষ্মীর সবচেয়ে বেশি পছন্দের ফল। মনে করা হয় জলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বস্তু লক্ষ্মীর বিশেষ প্রিয়। পানিফল জলে উৎপন্ন হয়, তাই পানিফলও লক্ষ্মীর ভীষণ পছন্দের।
মাখানা বা পদ্মবীজ : লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয় খাবার হল মাখানা। এটিও জলে উৎপন্ন হয়। একটি কঠোর আবরণের মধ্যে মাখানা থাকে বলে একে শুদ্ধ ও পবিত্র মনে করা হয়ে থাকে। লক্ষ্মীকে মাখানার ভোগ নিবেদন করলে ভক্তের জীবন দূর করেন অর্থ সংকট। ধন দিয়ে ভরিয়ে দেন।
ফল ও মিষ্টি : লক্ষ্মী পুজোর দিন অবশ্যই দেবীকে টাটকা ফল ও মিষ্টির ভোগ নিবেদন করবেন। নারকেল মিষ্টি, অন্যান্য মিষ্টি ও টাটকা ফলের পাশাপাশি শুকনো ফলের ভোগও নিবেদন করতে পারেন। এতে ব্যক্তির জীবন থেকে অর্থাভাব দূর হয়।
বাতাসা : মনে করা হয়, বাতাসা হল চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আবার শাস্ত্র মতে চন্দ্র হল দেবী লক্ষ্মীর ভাই। এই কারণে বাতাসা লক্ষ্মীর বিশেষ প্রিয়। গুড় বাতাসা বা সাদা বাতাসার ভোগ নিবেদন করতে পারেন।
এছাড়াও পুজো শেষ হওয়ার পর দেবীকে পানের ভোগ নিবেদন করতে ভুলবেন না। পানের নৈবেদ্য লক্ষ্মী দেবীর ভীষণ পছন্দের। পানের ভোগ নিবেদন করলে নিজের ভক্তের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর করেন দেবী।