পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আমি মন্ত্র তন্ত্র কিছুই জানি নে মা
শুধু যা জেনেছি সেটুক হলো এই,
তোরে ডাকার মতো ডাকতে যদি পারি,
তবে আসবি নে তোর এমন সাধ্য নেই…
মা’কে ডাকতে গেলে প্রয়োজন হয়না কোনো আচারের। তাঁকে যে ভাবে মন দিয়ে ডাকা হয়, তিনি তাতেই সন্তুষ্ট হন, কারণ মা লক্ষ্মী পরম করুণাময়ী। মা লক্ষ্মী নিজের ভক্তদের ধন-সম্পদ ও মনোস্কামনা পূরণের আশীর্বাদ দেন এবং অলক্ষ্মী বিনাশ করেন। এবছর ১৬ আর ১৭ই অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। সারা বাংলা জুড়ে অনেকের বাড়িতেই এই লক্ষ্মীপুজো হয়। কিন্তু সকলে বাড়িতে পুরোহিত ডেকে পুজো করতে পারেননা। এদিকে যুগ যুগ ধরে বাড়িতে গৃহদেবী লক্ষ্মীর পুজোপাঠের আয়োজন সাধারণত মেয়েরাই সামলে আসছেন। তাই লক্ষ্মীপুজো সম্পূর্ণ স্ত্রী আচারের পুজো হিসেবে পরিচিত। আর, তাই বাড়ির মেয়েরা অনায়াসেই এই লক্ষ্মীপুজো করতে পারেন।
এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাড়িতে পুরোহিত ছাড়াই করা সম্ভব। তবে মন্ত্র না জানলে কোনো অসুবিধে নেই, শুধু একটু নিয়ম মেনে ভক্তি ভরে মা লক্ষ্মীর পুজো করলেই হল। তাই নিজের বাড়িতে কী ভাবে স্ত্রী ও মেয়েরা লক্ষ্মীপুজো করবেন, সেটি জেনে নিন :
- প্রথমে চারিদিকে ও নিজের মাথায় “গঙ্গা গঙ্গা গঙ্গা” বলে গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিন। হাতে গঙ্গাজল নিয়ে বলুন “অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সৰ্ব্বাবস্থাং গতোঽপি বা। যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তর শুচিঃ।।” তারপরে হাতে গঙ্গাজল নিয়ে “নমঃ বিষ্ণু” ৩ বার বলে নারায়ণকে স্মরণ করে পুজো শুরু করুন।
- পুজোর স্থানে কোশাকুশিতে জল রাখুন ও একটি তামার পাত্র রাখুন। কুশিতে জল, জবাফুল, দূর্বা ও আতপচাল নিয়ে তামার পাত্রে জল ঢালতে ঢালতে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করুন।
- মাটির একটি গোল ডেলা পাকিয়ে সেটিকে সমান করে রেখে তার ওপর ঘট বসান। ঘটের সামনে ধান ছড়িয়ে দিতে হবে। ঘটে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন।
- এবার ঘটে গঙ্গা জল ভরে তার ওপর আম্রপল্লব রাখুন। আম পাতার ওপর তেল ও সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে দেবেন এবং একটি সশীর্ষ ডাব ঘটে স্থাপন করুন। পাতার ওপর হরিতকী, ফুল, দূর্বা রাখুন।
- এবার মা লক্ষ্মীকে আহ্বান করুন। হাত জোর করে লক্ষ্মীকে স্মরণ করে বলুন, ‘এসো মা আমার গৃহে প্রবেশ করো। আমার গৃহে অধিষ্ঠান করো। আমার এই সামান্য আয়োজন, নৈবেদ্য গ্রহণ করো মা।’
- এবারে মা লক্ষ্মী প্রণাম মন্ত্র জপ করবেন।
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বত পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমহস্তুতে।।
- এরপর মা লক্ষ্মীকে গান বা মন্ত্রের সাহায্যে আবাহন করবেন।
- তারপরে পুজোর সমস্ত দ্রব্য মা লক্ষ্মীর পায়ে অর্পণ করবেন।
- তারপরে ফুলচন্দন দূর্বা বেলপাতা হাতে নিয়ে করজোরে এই মন্ত্র পাঠ করে তিনবার পুষ্পাঞ্জলি দেবেন :
ওম্ নমস্তে সর্ব্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে। যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভুয়াত্তদর্চনাৎ॥ এষ সগন্ধ পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলিঃ শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ নমঃ।।
- এরপর ডান হাতে দূর্বা ও ফুল নিয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বসে লক্ষ্মীদেবীর পাঁচালি পাঠ করুন।
- শেষে প্রণাম করে শঙ্খধ্বনি দিয়ে পুজো সমাপণ করুন।