নিজস্ব প্রতিনিধি : কথায় আছে ‘রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী’.. তবে রুপে কম লাবণ্যময়ী নন দেবী সরস্বতী। বলা হয় দেবীর সৌন্দর্য এমনই ছিল যে ব্রহ্মা এক মুহুর্ত ও না দেখে থাকতে পারেন না।তাই চতুর্দিকে যাতে সরস্বতী কে দেখতে পারেন তার জন্য তিনি নিজের চারটি মুখ সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত কথা আছে যে সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া যায় না।পুজোর আগেই এখন বাজার ছেয়ে গিয়েছে টোপা কুল ও নারকেলি কুলে। জ্ঞানের এই দেবীকে তুষ্ট করতে সকলেই চায়। তবে জানেন কী কেন এমন নিষেধাজ্ঞা? তবে আজ জানুন সরস্বতী পুজোর ইতিহাস।
একবার সরস্বতী দেবীকে তুষ্ট করার জন্য মহামুনি ব্যাসদেব কঠিন তপস্যা করেছিলেন।তিনি বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করবেন বলে ঠিক করেছিলেন।এইকথা জানতে পরে ভক্তের পরীক্ষা নিতে হাজির হন সরস্বতী। তিনি ওই আশ্রমের সামনে একটি কুল বীজ রেখে আসেন।এরপর তিনি ব্যাসদেবকে জানান দেন যে ওই কুল বীজ থেকে গাছ হবে। সেই গাছে ফলও হবে।এই ফল যেদিন তার মাথায় পড়বে সেইদিনই তাঁর তপস্যা পূ্র্ণ হবে।
ব্যাসদেবও সেই শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করলেন।ধীরে ধীরে কুল বীজ থেকে গাছ হল। বহু বছর পর গাছ বড় হয়ে উঠল। এরপর কুল গাছে ফল এল। ফল পেকে ব্যাসদেবের মাথার উপর পড়ল। এরপর ব্যাসদেব বুঝতে পারলেন তার সাধনা সফল হয়েছে। এভাবেই দেবী সরস্বতীর মন জয় করেছিলেন ব্যাসদেব। সেই থেকে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে নেই।
আরও পড়ুন : সরস্বতী পুজোর দিন ভুলেও এই কাজগুলি করবেন না, জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে…
ধর্মীয় ব্যাখার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ব্যাখাও আছে। স্বাস্থ্যগত কারণেও সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া ঠিক নয়। কারণ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে কুল কাঁচা বা কশযুক্ত থাকে। কাঁচা কুল খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তাই এইসময় বারণ করা হয় কুল খেতে।