নিজস্ব প্রতিনিধি : মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দেবকুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হল বিশ্বকর্মা। আবার বলা হয় বিশ্বকর্মা হলেন স্বর্গলোকের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থপতি ও ভাস্কর।কারিগরি ও নির্মাণ শিল্পের দেবতা বলা হয় বিশ্বকর্মাকে। অন্যদিকে ঋগ্বেদ অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা হল পরম সত্যের প্রতিরূপ, সৃষ্টিশক্তির দেবতা। হিন্দু পুরাণ মতে, সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি যুগে বিশ্বকর্মার অমর কীর্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকী তিনি মহাদেবের ত্রিশুল থেকে শুরু বজরংবলীর গদা, নারায়নের চক্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের শক্তি, রাবণের লঙ্কা ইত্যাদি তৈরি করেছিলেন।
বিশ্বকর্মা পুজো মানেই সৃজনশীলতা,কারুকার্য ও মেধার জয়জয়কার। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই সে দিনটা জুড়ে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব বাংলায়। বিশ্বকর্মার হাতেও লাটাই দেখা যায়। আপনি কি জানেন কেন এইদিন আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো হয় ?
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে বহু মত রয়েছে। বলা হয়, বাংলায় ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়েছে ১৮৫০ সাল থেকে। কলকাতা ও গ্রাম বাংলার বিরাট ধনী জমিদাররা ঘুড়িতে টাকা বেঁধে ওড়ানো শুরু করেন। মনে করা হত তাঁদের বিশ্বকর্মা পুজোর উৎসব ও পারিবারিক শুভ কামনার উদ্দেশ্যে এমনটা করা প্রয়োজন।যদিও এত বছর পর কলকাতার অনেক অভ্যাস বদলেছে। কিন্তু বদলায় নি এইদিন ঘুড়ি ওড়ানো।
একটি পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী, অন্য সব দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ বানিয়ে ছিলেন বিশ্বকর্মা। সেটা স্মরণ করতেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। যদিও অন্যান্য রাজ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য পৃথক দিন আছে।
আবারও শোনা যায়, বৈজ্ঞানিক বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন উড়ন্ত ঘুড়ির মধ্যেই আকাশে বিদ্যুৎ চিনেছিলেন প্রথম! বিশ্বকর্মাকে যেহেতু দেবকুলের ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়। তাই বিশ্বকর্মাকে মনে রাখতে এইদিন আকাশে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।
সব চেয়ে জনপ্রিয় ঘুড়িগুলির নাম পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি ময়ূরপঙ্খী, বগ্গা। এছাড়াও ডায়মন্ড ঘুড়ি, বার্ন ডোর, ডোপিরো, রোলার, স্লেড, ডেল্টা, বক্স এবং অক্টোপাস ঘুড়ির চল দেখা যায়।