নিজস্ব প্রতিনিধি : কৈলাসে ফিরে গিয়েছেন উমা। এবার চাঁদের আলোয় মর্ত্যে নেমে আসছেন দেবী লক্ষ্মী। সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও ধনসম্পদের দেবী আসবেন গৃহস্থের বাড়িতে। গভীর রাতের ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারে মর্ত্যে পা রাখবেন নারায়ণী। তাঁর পায়ের স্পর্শে মর্ত্য ভরে উঠবে আলোর রোশনাইয়ে। রাতটুকু কাটলেই শুরু হবে লক্ষ্মীপুজো। তবে তাঁর আগেই জেনে নিন লক্ষ্মীপুজোর ইতিহাস। জানেন কি একবার লক্ষ্মীহীন হয়ে পড়েছিল স্বর্গ। কার অভিশাপে এমন হয়েছিল, আর কি করেই বা দেবতারা ফিরে পেল লক্ষ্মীকে। তবে জেনে নিন সমুদ্রগর্ভে কেন আশ্রয় নিতে হয়েছিল মা লক্ষ্মীকে।
দুর্বাসা মুনির অভিশাপ : কথিত রয়েছে, দুর্বাসা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মীহীন হয়ে পড়েছিল স্বর্গ। আসলে দুর্বাসা মুনি পারিজাত ফুলের মালা উপহার দিয়েছিলেন ইন্দ্রকে। কিন্তু দেবরাজ সেই মালা ঐরাবতের দিকে ছুড়ে দেন। আর ঐরাবত ফুলের সুগন্ধিতে পাগলের মত আচরণ করতে থাকে। এবং সেই মালা উত্তেজনাবশত নিজের পায়ে দলে দেয়।
তাঁর দেওয়া মালা হাতির পায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে দেখে সহ্য করতে পারেন নি দুর্বাসা। এমন বিষয় ভালো চোখে দেখেননি তিনি। এই দৃশ্য দেখে তিনি রেগে লাল হয়ে যান। আর অভিশাপ দিয়ে বসলেন। কিন্তু কাকে? সরাসরি লক্ষ্মীকে নয় বটে, তিনি অভিশাপ দিলেন স্বর্গ লক্ষ্ণীহীন হয়ে পড়ুক। ফলে একদিকে যেমন স্বর্গ তার জৌলুস, সৌন্দর্য্য হারাল। সমস্ত দেব দেবীর শরীর থেকে গয়না, মনি মুক্ত অদৃশ্য হয়ে গেল। অন্যদিকে মা লক্ষ্মীর স্থান হল সমুদ্রগর্ভে।
আরও পড়ুন : লক্ষ্মীর আট অবতারের কথা জানেন ?
এরপরই হয়েছিল সমুদ্রমন্থন। এই নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাঁধে। এরপরেই সমুদ্রমন্থনেই উঠেছিল গরল ও অমৃত। উঠেছিল নানা মণিমানিক্য। তখনই উঠে আসে দেবী লক্ষ্মী। লক্ষ্মী ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারও দেব দেবীর গায়ে ভরে ওঠে মণিমানিক্য। এদিকে লক্ষ্মীকে ফিরে পেয়ে খুশি হল সকল দেব দেবী।
সমুদ্রে গর্ভে দেবী লক্ষ্মীর তপস্যা : স্কন্দ পুরাণ মতে, নারায়ণকে স্বামী হিসেবে পেতে লক্ষ্মী সমুদ্রের গর্ভে প্রবেশ করে বছরের পর বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। আর সেই সময় বহু দেবতাই নারায়নের ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর সামনে আসেন। কিন্তু লক্ষ্মী তাঁদের বিশ্বরূপ দেখাতে বলেন। কিন্তু সকলেই ব্যর্থ হন। শেষপর্যন্ত দেখা দেন নারায়ণ। এরপর তাঁর সঙ্গেই বিয়ে হয় লক্ষ্মীর।