পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বাংলার সকল ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে আজ একটি বিশেষ দিন। ১৮৫৩ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর হুগলি জেলার জয়রামবাটী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের “জ্যান্ত দুর্গা” শ্রী শ্রী সারদা দেবী। ভক্তদের কাছে তিনি মা সারদা নামেই পরিচিত। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কামারপুকুর নিবাসী গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের তথা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মা সারদা অত্যন্ত সহজ ভাবে জীবনের কঠিন সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে একজন অতি সাধারণ গ্রাম্য মহিলা প্রথাগত শিক্ষা ছাড়া যে ভাবে গভীর দর্শনের কথা বলে গিয়েছিলেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের উদ্রেক করে। রামকৃষ্ণ অর্ধাঙ্গিনী দেবী সারদা মহাসমাধির আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সন্তানদের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করে গিয়েছেন। এমনকী, সহজ সরল ভাষায় ভগবত তত্ত্ব প্রচার করে জীবনে কোন পথে, কী ভাবে চলতে হবে, তা তিনি লোকশিক্ষার দ্বারা শিখিয়ে গিয়েছিলেন।
তাঁর উপদেশাবলী আমাদের মন শান্ত করে এবং খারাপ সময় আসলেও ভক্তিতে অবিচল থেকে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দেয়। সারদা মায়ের এমনই ১০টি অমূল্য বাণী আজ আমরা জেনে নেব।
- সারদা মায়ের ১০ টি বাণী :
- ‘আমি সতেরও মা, অসতরেও মা। আমি সত্যিকারের মা; গুরুপত্নী নয়, পাতানো মা নয়, কথার কথা মা নয় – সত্য জননী।’
- ‘যদি শান্তি চাও মা, কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগৎকে আপনার করে নিতে শেখ। কেউ পর নয়, মা জগৎ তোমার।’
- ‘কর্মফল ভুগতে হবেই। তবে ঈশ্বরের নাম করলে যেখানে ফাল সেঁধুত, সেখানে সুঁচ ফুটবে। জপ তপ করলে কর্ম অনেকটা খণ্ডণ হয়। যেমন সুরথ রাজা লক্ষ বলি দিয়ে দেবীর আরাধনা করেছিল বলে লক্ষ পাঁঠায় মিলে তাঁকে এক কোপে কাটলে। তার আর পৃথক লক্ষ বার জন্ম নিতে হল না। দেবীর আরাধনা করেছিল কিনা। ভগবানের নামে কমে যায়।’
- ‘ভাঙতে সবাই পারে, গড়তে পারে ক’জনে? নিন্দা ঠাট্টা করতে পারে সব্বাই, কিন্তু কী করে যে তাকে ভালো করতে হবে, তা বলতে পারে ক’জনে?’
- ‘একশো জনকে খাওয়াতে হবে না, কিন্তু চোখের সামনে একজন ক্ষুধার্তকে দেখলে তাঁকে একটু খেতে দিও।’
- ‘জপ করতেই হবে। মন না বসলেও জপ করা ছাড়লে চলবে না। তোমার কাজ তুমি করে যাবে। সাধন করতে করতে দেখবে আমার মাঝে যিনি, তোমার মাঝেও তিনি। দুলে-বাগদি-ডোমের মাঝেও তিনি।’
- ‘সংসারে থাকতে গেলে কেমন করে থাকতে হয় জানো ? যেখানে যেমন সেখানে তেমন, যখন যেমন তখন তেমন আর যাকে যেমন তাকে তেমন।’
- ‘যেমন ফুল নাড়তে নাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে সুগদ্ধ বের হয়, তেমনই ভগবত্ তত্ত্বের আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়।’
- ‘সংসারে কতরকম লোক থাকে। সব সহ্য করে থাকতে হয়। ঠাকুর বলতেন, “শ, ষ, স” – তিনটে স। যে সয়, সে রয়।’
- ‘ভগবানকে কি কেউ বাঁধতে পারে? তিনি যাঁর কাছে ধরা দেন, তাঁর কাছে নিজে থেকে ধরা দেন। তিনি নিজে ধরা দিয়েছিলেন বলেই না মা যশোদা তাঁকে বাঁধতে পেরেছিলেন।’